পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা ভারতের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করেছেন। শনিবার (৩ মে) দুপুরে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে ত্রিপুরার আগরতলায় প্রবেশ করেন। প্রায় মাসখানেকের এই সফর শেষে তিনি ২৯ মে দেশে ফিরবেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।
সন্তু লারমার সফরের আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে ধর্মীয় আচার, পিতৃ-মাতৃ তর্পণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা বলা হলেও, তার দীর্ঘ মেয়াদি অবস্থান এবং সফরপথ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সূত্র জানিয়েছে, এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে ভারতের সমর্থন জোগাড় করা এবং বিদেশি মহলে তার দলীয় অবস্থান তুলে ধরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউপিডিএফ’র একজন জ্যেষ্ঠ নেতা দাবি করেছেন, “পাহাড়ের রাজনীতিতে সন্তু লারমা এখন অনেকটাই কোণঠাসা। দলীয় অস্ত্রভাণ্ডার শক্তিশালী করা এবং সীমান্তে অবস্থানরত সশস্ত্র জেএসএস ক্যাডারদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের নিশ্চয়তা আদায় করতেই তার এই সফর।”
তবে ইউপিডিএফের এই বক্তব্যকে ‘হীনপ্রচার’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে জেএসএস-এর এক অনলাইন মুখপাত্র। এক পোস্টে তারা লিখেছে, সন্তু লারমা ভারতে যাবেন বলে সঞ্চয় চাকমা, প্রজ্ঞা তাপস চাকমা, অমিত হিলসহ ইউপিডিএফ নেতাদের অন্তর জ্বালা হচ্ছে ।

এই প্রথমবারের মতো আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত সফরে গেলেন সন্তু লারমা। সড়কপথে রাঙামাটি থেকে তিনি আখাউড়ায় আসেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি তেমন কিছু বলতে চাননি। শুধু বলেন, “একবার আসুন, রাঙামাটি ঘুরে দেখে যান, তবেই বুঝবেন।”
সফরের সময় আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে তাকে স্বাগত জানান আখাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) শাহীনুর ইসলাম, ইমিগ্রেশন ইনচার্জ সোহেল মাহমুদ এবং আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার মোখলেছুর রহমান। সন্তু লারমার ব্যক্তিগত সহকারী শ্যামল লারমা জানিয়েছেন, তিনি আখাউড়া পথেই দেশে ফিরবেন, তবে নির্দিষ্ট তারিখ এখনও নিশ্চিত নয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সরকার ও জেএসএস-এর মধ্যে ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে সন্তু লারমা পাহাড়িদের পক্ষ থেকে সই করেন। এরপর থেকে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার চলমান সফর নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধুই ব্যক্তিগত না হয়ে পাহাড়ি রাজনীতির একটি নতুন মোড়ের ইঙ্গিতও হতে পারে।
-পার্বত্য সময়


