খাগড়াছড়িতে সহিংসতার ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে ১৪৪ ধারাও তুলে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল খন্দকার। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি গুইমারার রামেসু বাজার এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, “খাগড়াছড়ির চলমান পরিস্থিতি আলোচনার টেবিলে বসে সমাধান করতে চাই। অবরোধ আহ্বানকারীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। জুম্ম ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে যে ৮টি দাবি দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে সাতটি ইতোমধ্যে অ্যাড্রেস করা হয়েছে। সহিংসতার ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সদস্যদের নাম পরে জানানো হবে।”
তিনি আরও জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের ইচ্ছা রয়েছে, তবে তার শর্ত হলো অবরোধ তুলে নেওয়া।
এর আগে গত রোববার পাহাড়ি এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে ডাকা অবরোধ চলাকালে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গুইমারার রামেসু বাজার। সেদিন আগুনে অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ও প্রায় ৪০টি দোকান পুড়ে যায়। গুলিতে নিহত হন তিনজন পাহাড়ি যুবক। আহত হন সেনাবাহিনীর এক মেজরসহ অন্তত ২০ জন।
মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণ তুলে দেন এবং পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “এই ক্ষতি অপূরণীয় হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে।”
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
অন্যদিকে, জেলা পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, “খাগড়াছড়িতে যে সহিংসতা ও সংঘর্ষ হয়েছে—এ ঘটনায় মামলা হবে। নিহতদের পরিবার অনাগ্রহী হলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগে মামলা করবে।”
গত শনিবার ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ সংগঠন খাগড়াছড়িতে অবরোধের ডাক দিলে সহিংস পরিস্থিতি দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন সদর ও গুইমারা উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে।


