পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সশস্ত্র সদস্যদের অনুপ্রবেশ ও অবাধ চলাচল ঠেকাতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরায় কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানায়, ত্রিপুরার গোমতী জেলা প্রশাসনের জারি করা আদেশ অনুযায়ী ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের ৩০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত গ্রামগুলোতে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।

ত্রিপুরার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ৩ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জেএসএস ও ইউপিডিএফসহ বাংলাদেশভিত্তিক কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তবর্তী একাধিক এলাকায় নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত বাগমা এলাকায় অবস্থিত বিএসএফের ১৫৯ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট সীমান্ত দিয়ে এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর চলাচল নিয়ে আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সীমান্ত এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফ ছাড়াও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কিছু অংশ এবং বাংলাদেশের কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের গোপন অনুপ্রবেশের ঝুঁকির কথাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ কারণে ত্রিপুরার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বেশ কয়েকটি অঞ্চলকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে গোমতী জেলার কারবুক সাব-ডিভিশনের আওতাধীন বিওপি লাবোকান্ত পাড়া থেকে বিওপি চ্যাপলিন চেরা পর্যন্ত বিস্তৃত সীমান্ত অঞ্চল। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এসব স্পট ব্যবহার করেই বাংলাদেশভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করতে পারে, যা ত্রিপুরার স্থানীয় শান্তি ও শৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

গোমতী জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩-এর ১৬৩ ধারার অধীনে এই বিধিনিষেধ আরোপ করে আদেশ জারি করেন। আদেশে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জননিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।

তবে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ত্রিপুরা পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং সীমান্তের চিহ্নিত এলাকাগুলোর ৩০০ মিটারের মধ্যে বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে।

ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, জেএসএস ও ইউপিডিএফসহ বাংলাদেশভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ত্রিপুরা সীমান্তে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৮৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।