বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পরিকল্পিতভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বড় ধরনের জাতিগত দাঙ্গা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইং চিং মং শাক। তিনি বলেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে অস্থিরতা তৈরির পুরনো কৌশল আবারও সক্রিয় হচ্ছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য গুরুতর হুমকি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে সম্প্রীতির বার্তা’ শীর্ষক লিফলেট বিতরণ ও পথসভা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইং চিং মং শাক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে শুধু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নয়, বাঙালি জনগোষ্ঠীও চরম অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। নির্বাচন এলেই পাহাড়ে একটি পরিকল্পিত অস্থিরতা তৈরি করা হয়। কেউ শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের কথা বলে, কেউ আবার চুক্তি বাতিলের স্লোগান তোলে। অথচ ২৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের জীবনে দৃশ্যমান কোনো সুফল আসেনি।
তিনি সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জায়গা-জমি সংক্রান্ত সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং সুপরিকল্পিত। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষণ স্পষ্ট। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য যদি অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, সিএইচটি সম্প্রীতি জোট রাষ্ট্রের কাছে তাদের পুনর্বাসনের দাবিতে দাঁড়াবে। রাষ্ট্র কাউকে পরিত্যাগ করবে না- এই বিশ্বাস থেকেই তারা সবাইকে সহিংসতার পথ পরিহার করে মূলধারায় ফেরার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মুখপাত্র পাইশিখই মারমা বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রধান রক্ষক। একটি আন্তর্জাতিক চক্র পরিকল্পিতভাবে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক। তিনি পাহাড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা আরও জোরদারের দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল নাগরিকের অধিকার ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে ৯ দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমি সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধান, পরিকল্পিত বিভাজন রোধ, সমঅধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সিনিয়র সদস্য শাহীন আলম, কেন্দ্রীয় সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন, সংগঠক আইএইচ রাফিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


