জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ভবনের সামনে উপজাতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অবশেষে জামিন পেলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের (পিসিসিপি) সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাদাত ফরাজী শাকিব। সোমবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এর আগে, শাহাদাত ফরাজীর গ্রেপ্তারের পর পাহাড়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তার মুক্তির দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ইউটিউবার পিনাকী ভট্টাচার্য, সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন ও আমজনতা পার্টির নেতা তারেক খানসহ বহু ব্যক্তি তার পক্ষে সোচ্চার হন এবং দ্রুত মুক্তির দাবি জানান।
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর শাহাদাত ফরাজী শাকিব বলেন, “আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। আদালত থেকে জামিন পাওয়ার মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা একবার নয়, হাজারবার জেলে যেতে প্রস্তুত। আমরা আদিবাসী স্বীকৃতির নামে চলমান ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো, যাতে পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেউ আলাদা রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা না করতে পারে।”
তিনি তার মুক্তির দাবিতে যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমাকে যারা সমর্থন করেছেন, তাদের ধন্যবাদ। এই লড়াই চলবে।”
গত ১৫ জানুয়ারি এনসিটিবি ভবন ঘেরাও করে ‘স্টুডেন্টস ফর সার্বভৌমত্ব’ নামের একটি সংগঠন, যারা পাঠ্যপুস্তকে ‘আদিবাসী’ শব্দ সংযোজন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিরোধী গ্রাফিতি সংশোধনের দাবিতে আন্দোলন করছিল। অন্যদিকে, ‘সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে কিছু ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী একই স্থানে গ্রাফিতি পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেয়।
দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়, যেখানে বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় ১৭ জানুয়ারি পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়, যাতে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২০০-৩০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
উল্লেখ্য, শাহাদাত ফরাজী শাকিব পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় একজন নেতা হিসেবে পরিচিত।
-পার্বত্য সময়


