পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত কাউখালী উপজেলা। চারপাশে পাহাড় আর সবুজ বনানী। সেখানেই জন্ম নিচ্ছে একের পর এক ফুটবল প্রতিভা। এই স্বপ্নের কারিগর রাঙামাটির সুইহলামং মারমা। নিজের সীমিত সামর্থ্য আর অকৃত্রিম ভালোবাসা দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন “সুইহলামং ফুটবল একাডেমি”—যা এখন পাহাড়ি তরুণীদের জাতীয় দলে তুলে দেওয়ার এক অনন্য কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ আনসার ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর ফুটবল দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুইহলামং। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকেই তার একটাই স্বপ্ন—পার্বত্য অঞ্চলের মেয়েদের ফুটবলের মূলধারায় আনা। সেই স্বপ্ন থেকেই ২০১৮ সালে মাত্র ১৪ জন নারী খেলোয়াড় নিয়ে যাত্রা শুরু করে তাঁর একাডেমি। শুরুটা ছিল কঠিন। একাডেমির সব খরচ চালাতে হয় নিজের ও স্ত্রীর বেতনের টাকায়, কখনো ঋণ নিয়েও।
আজ সেই একাডেমিতে খেলছে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির ৫০ জনেরও বেশি তরুণী। থাকা-খাওয়া, পড়াশোনা, খেলাধুলা—সব দায়িত্বই নেন সুইহলামং। প্রতি মাসে খরচ হয় প্রায় এক লাখ টাকা। প্রথম দিকে একাই লড়তে হলেও এখন পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

সুইহলামং ফুটবল একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া আগামীর ফুটবলারদের সঙ্গে সুইহলামং মারমা। ছবি: সংগৃহীত


এরই মধ্যে তার একাডেমি থেকে ৮ জন নারী খেলোয়াড় জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। সেনাবাহিনীতে চাকরি পেয়েছেন ৪ জন, বিকেএসপিতে ভর্তি হয়েছেন ৭ জন। শুধু তাই নয়—বর্তমান জাতীয় নারী ফুটবল দলের তারকা ঋতুপর্ণা, রুপনা, মনিকা, আনাই ও আনুচিংদের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি (২০১১–২০১৬ সালে)।
এক যুগ আগেও যেখানে পার্বত্য অঞ্চলের মেয়েদের ফুটবল খেলার কথা কল্পনা করাও কঠিন ছিল, সেখানে আজ তারা জাতীয় দলের গর্ব। আর সেই পরিবর্তনের অদৃশ্য শক্তি সুইহলামং মারমা। তার একাডেমি প্রমাণ করছে—অসাধারণ কিছু করতে বড় অবকাঠামো নয়, দরকার শুধু দৃষ্টি, স্বপ্ন আর নিবেদিতপ্রাণ একজন মানুষ।

-পার্বত্য সময়