শিশুরা নিয়মিত স্কুলে আসে- ঘণ্টা বাজে, ক্লাসও হয়। কিন্তু যিনি পড়ান, তার নাম নেই সরকারি তালিকায়। আর যার নামে বেতন উঠছে, তাকে পাওয়া যায় তামাকক্ষেতে বা বাজারে ব্যবসার কাজে। বান্দরবানের আলীকদমের তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে জেলা পরিষদের তদন্ত দল।

এই তিন বিদ্যালয়ে কর্মরত ১৫ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৩ জনের বিরুদ্ধে দফতরে অনুপস্থিত থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থানজামা লুসাই। বিষয়টি বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে আসে। তবে প্রশিক্ষণে থাকায় দুজনকে এই নির্দেশের বাইরে রাখা হয়েছে।

ঘটনাগ্রস্ত বিদ্যালয় তিনটি হলো- রেংপুং হেডম্যানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাইতুমণিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেনকিউ মেনকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, অনুপস্থিত শিক্ষকেরা বেতন তুলেছেন, তামাক চাষসহ ব্যক্তিগত ব্যবসায় যুক্ত থেকেছেন এবং নিজেদের বদলে অন্যদের দিয়ে (বর্গা শিক্ষক) ক্লাস করিয়েছেন- যা সম্পূর্ণ বেআইনি। অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক জবাবও তারা দিতে পারেননি।

২০২২ সালের ১৩ এপ্রিল বিদ্যালয়গুলো সরকারিকরণের পর থেকেই তাদের বিরুদ্ধে অনুপস্থিতি, ভুয়া উপস্থিতি ও প্রক্সি শিক্ষক নিয়োগসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠছিল। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগকে সত্য বলে নিশ্চিত করে।

অভিযুক্ত শিক্ষকরা দাবি করেছেন, দুর্গম এলাকা, ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত এবং আবাসিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে নিয়মিত উপস্থিত থাকা কঠিন। নারী শিক্ষকদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল। তাই এই বাস্তবতা বিবেচনা না করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অন্যায় হবে।

রাইতুমণিপাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মংসাথুই মারমা বলেন, তিনি এক বছর প্রশিক্ষণে ছিলেন। এ সময়ে বিদ্যালয় কীভাবে চলেছে, তিনি জানেন না।

মেনকিউ মেনকপাড়া বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক রাজিব ম্রো বলেন, দুর্গমতার কারণে আগে বিদ্যালয়ে থাকা সম্ভব হতো না। এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে, কিন্তু নারী শিক্ষকদের সমস্যা রয়ে গেছে।

আলীকদম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়গুলো এতই দুর্গম যে পরিদর্শন করাই দুঃসাধ্য। তবে জেলা পরিষদের তদন্তের পর পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, এবং শিক্ষা কার্যক্রমকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।