চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে একের পর এক টেলিকমকর্মী অপহরণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মোবাইল টাওয়ার রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সার্বস কমিউনিকেশন লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি অপহৃত কর্মীদের দ্রুত উদ্ধার এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত অন্যান্য টেলিকম কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার মো. আল ইমরান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সার্বস কমিউনিকেশন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অনুমোদিত টাওয়ার কোম্পানি ইডটকো বিডির পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলায় মোবাইল টাওয়ার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে। ২০২২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি কোনো বিরূপ পরিস্থিতি ছাড়াই কাজ করে এলেও সাম্প্রতিক অপহরণের ঘটনায় তা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গত ৫ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের কর্ণফুলী বাজার এলাকায় রবি টাওয়ারে দায়িত্ব পালনের সময় নিখোঁজ হন সার্বস কমিউনিকেশনের দুই কর্মী মোহাম্মদ সুমন ইসলাম (৩২) ও আব্দুর রহিম (৩৬)। পরদিন ৬ জুন ফটিকছড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও এখন পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি।
এর আগে, গত ১৯ এপ্রিল খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার একটি রবি মোবাইল টাওয়ার থেকে অপহৃত হন আরও দুই কর্মী—মো. ইসমাইল মিয়া ও আব্রে মারমা। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও দু’মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁদের উদ্ধারে অগ্রগতি নেই বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে আমাদের শত শত মাঠপর্যায়ের টেলিকম কর্মী মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। অপহৃতদের পরিবার চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। আমরা চাই, তারা যেন অক্ষত অবস্থায় দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরতে পারেন।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “এভাবে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আতঙ্কের মধ্যে আমাদের পক্ষে পার্বত্য অঞ্চলে মোবাইল সেবা সচল রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। অপহৃত কর্মীদের উদ্ধারে মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।”
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও অজ্ঞাত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতায় সাম্প্রতিক সময়ে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো পরিচালনায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সেবার ভবিষ্যতের জন্যও একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
-পার্বত্য সময়


