স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও পরবর্তী সহিংসতার জেরে কয়েকদিনের টানাপোড়েনের পর খাগড়াছড়ি জেলা শহরে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রোববার সকাল থেকে প্রায় সব দোকানপাট বন্ধ, রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচলও কম।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের কড়া অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। টহলও জোরদার করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষজনকে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হচ্ছে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নারানখিলা ও মহাজনপাড়ায় পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় অন্তত ২৩ জন আহত হন। বিকেলে সেনা ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগে সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ চলাকালে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছ ফেলে বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। এতে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও সাজেকের সঙ্গে জেলার যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
শুক্রবার রাতেই প্রশাসন খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারি করে। শনিবার রাতে সেনা নিরাপত্তায় সাজেক থেকে প্রায় দুই হাজার আটকা পর্যটককে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার আধাবেলা সড়ক অবরোধ এবং শনিবার জেলাজুড়ে সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ পালিত হয়। মামলার পরদিনই সেনাবাহিনীর সহায়তায় শয়ন শীল (১৯) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, তবে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।”
জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার জানান, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে।


