রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার এক শ্মশানের পাশ থেকে রক্তমাখা অবস্থায় পড়ে থাকা একটি নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, শিশুটি তখন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল এবং তার শরীরে লাল পিঁপড়া কামড়াচ্ছিল।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছাগলখাইয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে শনিবার সকালে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকার বাসিন্দা শ্রীকান্ত দে (১৩) প্রথম নবজাতকটিকে দেখতে পান। তিনি শ্মশানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শিশুটির কান্না শুনে এগিয়ে যান। পরে বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার মা সন্ধ্যা রানীকে জানান। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
শিশুটির বয়স আনুমানিক সাত দিন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে রক্তমাখা অবস্থায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
শ্রীকান্ত দে বলেন, “শ্মশানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি একটি শিশু পড়ে আছে। সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল। তখন আমি বাড়িতে গিয়ে মাকে খবর দিই। পরে মা গিয়ে তাকে নিয়ে আসে।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য থুইচিংমং মারমা জানান, শুক্রবার শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে দেখভাল করা হয়। পরদিন উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহায়তায় তাকে রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক মো. নেজাম উদ্দিন বলেন, “পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া কন্যাশিশুটিকে হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সে কিছুটা সুস্থ রয়েছে।”
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার জানান, উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে দত্তক নিতে ইতোমধ্যে অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে শিশুটি পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা শিশুটিকে পরিত্যাগের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


