রাঙামাটির বরকল উপজেলার আইমাছড়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় গ্রামের মানুষের চাঁদার টাকায় টিকে আছে ঠেগা আন্ধারমানিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সরকারি কোনো সহায়তা নেই; বাঁশের ঘর ও খোলা আকাশের নিচে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
২০০৪ সালে আশপাশের ১৩ গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করে। অর্থাভাবে তিনবার বন্ধ হয়ে গেলেও ২০১৯ সালে গ্রামবাসী চাঁদা তুলে আবার চালু করেন। বর্তমানে এখানে ৮৯ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
বিদ্যালয়ে লাইব্রেরি নেই, ভবন ভাঙাচোরা। বৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীদের বইপত্র ভিজে যায়। ৮ জন শিক্ষক ও ২ কর্মচারীর বেতন দিতে হিমশিম খেতে হয় পরিচালনা কমিটিকে।
অভিভাবক পংকজ চাকমা বলেন, আমরা সবাই জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল। চাঁদা দিয়ে বিদ্যালয় চালাই। এটা বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাজেশ চাকমা জানান, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, সংস্কার করার সামর্থ্য নেই। আমরা সরকারি সহায়তা চাই।
আইমাছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুবিমল চাকমা বলেন, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের আবেদন বহুবার করা হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এত অবহেলিত এলাকায় সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন কল্পনাও করা যায় না।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রভাত বিন্দু চাকমা জানান, এমপিওভুক্তির জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা পূরণ করতে হবে। তবে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বইপত্রসহ সামান্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্গম ও সীমান্তবর্তী এই বিদ্যালয়টি সরকারি সহায়তা পেলে এলাকার শত শত শিক্ষার্থীর জন্য একমাত্র ভরসা হয়ে উঠবে বলে মনে করেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

-সূত্র- সমকাল।