রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনটি সেতু সাত বছর ধরে নিষ্ক্রিয় পড়ে রয়েছে সংযোগ সড়ক না থাকায়। সাড়ে ৮০০ ফুট রাস্তা নির্মাণের অভাবে সেতুগুলো কাজে লাগছে না। ফলে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ। জরুরি রোগী পরিবহন থেকে শুরু করে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ- সব ক্ষেত্রেই ব্যাঘাত ঘটছে।
বাঘাইছড়ি পৌর এলাকার কুদ্দুস পাড়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয় দুটি সেতু। প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ সেতু দুটির সংযোগ সড়ক না থাকায় এখনো ব্যবহার করা যায়নি। বর্ষার সময় প্রায় পুরো রাস্তা পানির নিচে ডুবে যায়, এমনকি রিকশাও যেতে পারে না- এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
গ্রামবাসীরা জানান, হঠাৎ অসুস্থতা বা জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হলে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। পণ্য পরিবহনেও চরম দুর্ভোগের শিকার তারা। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি তাদের।
অন্যদিকে, একই সময়ে কাচালং সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ৩৯ ফুট দীর্ঘ আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হয় ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে। কিন্তু সেতুর উত্তর প্রান্তে মাত্র ৫০ ফুট সড়ক না থাকায় সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থীসহ প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ।
কাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, বর্ষায় রাস্তা অত্যন্ত খারাপ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের জন্য পথটি জরুরি ভিত্তিতে চলাচলযোগ্য করা প্রয়োজন।
সংবাদমাধ্যম এখন টিভির খবরে বলা হয়- রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ বলেন, সেতুগুলো দ্রুত কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। খুব দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা মনে করেন, সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষিবাণিজ্যসহ দৈনন্দিন চলাচলে বড় পরিবর্তন আসবে। তাই জনগুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ বাস্তবায়নের দাবি তাদের।


