খাগড়াছড়িতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় আয়োজন শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শিল্পী ও আয়োজকেরা।
প্রতিমা রঙের কাজ, মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণে এখন প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর পাহাড়ি জেলা। সকাল থেকে রাত অবধি চলছে সাজসজ্জার শেষ টান।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলায় মোট ৬৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২১টি, পানছড়িতে ১০টি, দীঘিনালায় ৯টি, মাটিরাঙায় ৯টি, গুইমারায় ৫টি, মানিকছড়িতে ৪টি, রামগড়ে ২টি, মহালছড়িতে ২টি এবং লক্ষিছড়িতে ১টি মণ্ডপে পূজা হবে।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দেবীর বোধন ও মহাপঞ্চমীর মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী, ২৯ সেপ্টেম্বর মহাসপ্তমী, ৩০ সেপ্টেম্বর মহাঅষ্টমী, ১ অক্টোবর মহানবমী এবং ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। এ বছর ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী দেবী দুর্গা হাতির পিঠে আগমন এবং দোলায় (পালকি) প্রস্থান করবেন।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা আয়োজন নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে। পুলিশের পাশাপাশি আনসার, গ্রাম পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক ও সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা, গোয়েন্দা নজরদারি ও মোবাইল টহল থাকবে।
পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অশোক কুমার মজুমদার বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্নের লক্ষ্যে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক তমাল তরুণ দাশ জানান, এ বছর মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে, প্রতিটির জন্য সরকারি সহায়তা, চাল বরাদ্দ ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার এবং পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল জানিয়েছেন, সকলের সহযোগিতায় নির্ঝঞ্ঝাট ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে তারা সর্বাত্মক প্রস্তুত।
আয়োজকেরা বলছেন, এ বছর শঙ্কাহীন পরিবেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দুর্গোৎসবের আনন্দে সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
-পার্বত্য সময়


