বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় মংজয়পাড়া ঝরনায় বেড়াতে গিয়ে পাহাড়ি ঢলে ভেসে নিখোঁজ হয়েছেন মেহেরাব হোসাইন (১৮) নামের এক তরুণ। মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়া খালে এই ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ মেহেরাব কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলুদিয়া পালং ইউনিয়নের মরিচ্যা বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় মরিচ্যা ওয়াকিয়া হোটেলের মালিক মো. আবুল মঞ্জরের ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ওই দিন দুপুরে ১৮ জন কিশোর ও তরুণের একটি দল মরিচ্যা বাজার থেকে ফাত্রাঝিরি এলাকার দুর্গম মংজয়পাড়া ঝরনায় ঘুরতে আসে। এলাকাবাসী ঝরনাটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান ও পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কার কথা জানিয়ে তাদের সেখানে যেতে নিষেধ করেন। তবে তারা স্থানীয়দের সতর্কতা উপেক্ষা করে ঝরনার দিকে রওনা দেন।
পরবর্তীতে বিকেল নাগাদ ভারী বৃষ্টি শুরু হলে পাহাড়ি ঢল নামে ভালুকিয়া খালে। ঢলমুখে ফেরার সময় তরুণরা খালের তীরবর্তী বাঁশ ও গাছ ধরে কোনোভাবে ফেরার চেষ্টা করেন। এ সময় ঢলের তোড়ে ভেসে যান মেহেরাব হোসাইন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করলেও এখনো পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ মেলেনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফাত্রাঝিরি এলাকার কিরণ তঞ্চঙ্গ্যা ও সজল বড়ুয়া জানান, "ভালুকিয়া খালের মংজয়পাড়া ঝরনাটি অত্যন্ত দুর্গম ও বিপজ্জনক। তাই ছেলেদের আমরা সেখানে যেতে মানা করেছিলাম। কিন্তু তারা কারও কথা শোনেনি।"
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসরুরুল হক জানান, নিখোঁজ তরুণকে খুঁজে পেতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। খালের আশপাশের এলাকাবাসীকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায়ও পাহাড়ি ঢলে তিনজন পর্যটক ঝরনায় ভেসে যান। তাদের মধ্যে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও হাসান চৌধুরী নামের একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের সময় দুর্গম ঝরনাগুলোতে পর্যটকদের প্রবেশ রোধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানির ঘটনা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

-পার্বত্য সময়