দীর্ঘ আড়াই বছর নিষেধাজ্ঞার পর সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হলো বান্দরবানের রুমা ও থানচি উপজেলার কিছু নির্দিষ্ট পর্যটন এলাকাকে। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে পাহাড়ে সশস্ত্র সংগঠন 'কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)' এর তৎপরতার কারণে এসব এলাকায় পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) বান্দরবান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আরা রিনির স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। এতে জানানো হয়, জেলা আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় সংক্রান্ত কোর কমিটির ৩ জুনের সভা এবং বান্দরবান সেনানিবাসের ৬৯ ব্রিগেড সদর দপ্তরের সুপারিশ অনুযায়ী রুমা ও থানচি উপজেলার নির্ধারিত এলাকাগুলোতে শর্তসাপেক্ষে পর্যটন কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে যেসব এলাকা পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে:
থানচি উপজেলা: মদক অভিমুখে তিন্দুমুখ পর্যন্ত এবং বাকলাই পাড়া অভিমুখে তমাতুঙ্গী পর্যন্ত।
রুমা উপজেলা: মুনলাই পাড়া এবং বগালেক পর্যন্ত।
তবে এসব এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিচের তিনটি শর্ত মানতে হবে:
১. অনুমোদিত এলাকার বাইরে যাওয়া যাবে না।
২. শুধুমাত্র জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের নিবন্ধিত ট্যুর গাইডের মাধ্যমে ভ্রমণ করতে হবে।
৩. সংশ্লিষ্ট চেকপোস্ট বা পর্যটক তথ্য সেবা কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফ-এর তৎপরতায় বান্দরবানের চারটি উপজেলার—রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি ও আলীকদমে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে রোয়াংছড়ি ও আলীকদম উপজেলার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও রুমা ও থানচিতে তা বহাল ছিল। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সীমিত পরিসরে হলেও রুমা ও থানচির গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলো।
এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তারা। তবে প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো অনিয়ম বা নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখা দিলে অনুমতি আবারও বাতিল করা হতে পারে।
বান্দরবানের অপরূপ প্রকৃতির টানে পর্যটকরা রুমা ও থানচিতে ফিরতে প্রস্তুত হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।

-পার্বত্য সময়