পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, সমন্বয় থাকলে কাজের অপচয় রোধ হয় এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিত হয়, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের কল্যাণে আসে। পাশাপাশি উন্নয়ন কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সরকারি সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহারের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স অডিটরিয়ামে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাগুলোর বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের জানুয়ারি ২০২৬ মাসের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমন্বয় ও কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাস্তাঘাট বা অবকাঠামো নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), জেলা পরিষদ ও উন্নয়ন বোর্ড আলাদাভাবে কাজ করে। এসব কাজের মধ্যে সঠিক সমন্বয় না থাকলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং অনেক সময় বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত চলে যায়। তাই প্রতিটি কাজে কৃচ্ছ্রসাধন নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী যে মিতব্যয়িতা ও সম্পদ সাশ্রয়ের ঘোষণা দিয়েছেন, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। তিনি রুলস অব বিজনেস মেনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল খাতের কাজগুলো তদারকির জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

সভায় বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ১৮০ দিনের কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা। কোনো কাজই ফেলে রাখা যাবে না, আজকের কাজ আজই শেষ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজে কোনো ধরনের গড়িমশি সহ্য করা হবে না। প্রতিটি প্রকল্প সততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। প্রয়োজনে আকস্মিক পরিদর্শনের (সারপ্রাইজ ভিজিট) মাধ্যমে কাজের মান যাচাই করা হবে।

সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রকল্প ব্যয়ের অগ্রগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ব্যয়ের অগ্রগতি ১৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ, যা জাতীয় গড় অগ্রগতি ২১ দশমিক ১৮ শতাংশের তুলনায় কম।

তিনি বলেন, নির্বাচনের কারণে কাজের গতি কিছুটা কমলেও এখন দ্রুততার সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও তৎপর হতে হবে।

সভায় জানানো হয়, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে মোট ৮৭২ কোটি ৪০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ২৫৮ কোটি ৫৭ লাখ ২২ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলামের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কাজল তালুকদার, শেফালিকা ত্রিপুরাসহ মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন সংস্থাসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।