পুলিশের চার স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে উপজাতি-রাখাল রাহা সিন্ডিকেট প্রথমে হামলা চালালেও, উল্টো স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি মামলার হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি), সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক মুহম্মদ ইয়াকুব মজুমদার প্রেরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।
রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও ‘আদিবাসী’ পরিভাষার অন্তর্ভুক্তি
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দেশি-বিদেশি একটি চক্র বাংলাদেশকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে পাঠ্যবইয়ে রাষ্ট্রবিরোধী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী পরিভাষা ‘আদিবাসী’ যুক্ত করতে চেয়েছিল। দেশবাসীর নজর এড়িয়ে পাঠ্যবইয়ে যুক্ত গ্রাফিতির মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা হয়। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি ৮ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে, ১২ জানুয়ারি এনসিটিবি কার্যালয়ের সামনে এবং সর্বশেষ ১৫ জানুয়ারি একই স্থানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করে।
১৫ জানুয়ারির ঘটনা ও সংঘর্ষের পরিকল্পিত রূপ
১৫ জানুয়ারি স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব মজুমদার এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির শাহাদাত ফরাজী সাকিবসহ ৬ জন প্রতিনিধি এনসিটিবি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার জন্য ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে সেখানে এনসিটিবি চেয়ারম্যানের পরিবর্তে পরিমার্জন কমিটির বহিরাগত সদস্য রাখাল রাহাকে উপস্থিত দেখতে পেয়ে তারা আপত্তি জানান।
এ সময় রাখাল রাহা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপ্রয়োজনীয় আলোচনা দীর্ঘায়িত করেন, যাতে সভারেন্টির প্রতিনিধিরা বাইরে সংঘর্ষের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত হতে না পারেন। পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় সভারেন্টির পক্ষ থেকে দ্রুত আলোচনা শেষ করার অনুরোধ জানানো হয়, কিন্তু রাখাল রাহা তাতে বাধা দেন।
একপর্যায়ে উপজাতিদের একটি মিছিল পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির অবস্থানস্থলে পৌঁছে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরে পুলিশ এনসিটিবি ভবনের ভেতরে উপস্থিত সভারেন্টির প্রতিনিধিদের জানায় যে, বাইরে সংঘর্ষ শুরু হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা দ্রুত নিচে নামলে সংঘর্ষের সমাপ্তি ঘটে। এতে স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির কয়েকজন সদস্য আহত হন, একজনের মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ হয়।
উপজাতি ও রাখাল রাহা সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্র
সংগঠনটি জানায়, কালের কণ্ঠের সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমানের করা ভিডিওসহ একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্পষ্ট দেখা যায় যে, র’-এর এজেন্ট অলিক ম্রি ও ছাত্র ফেডারেশনের আরমানুল হকের নেতৃত্বে উপজাতিরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সভারেন্টির কর্মীদের উপর হামলা চালায়। নিজেদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঢাকতে রাখাল রাহা সিন্ডিকেট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রোপাগান্ডা চালিয়ে স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টিকে ‘নিপীড়ক সংগঠন’ হিসেবে চিত্রিত করতে চেয়েছে।
সরকারি নিরপেক্ষতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা
বিবৃতিতে বলা হয়, সংঘর্ষের মূল দায় উপজাতি ও রাখাল রাহা সিন্ডিকেটের হলেও, মামলা দায়ের করা হয়েছে কেবল স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের চেষ্টা করা হলেও, ‘উপরের নির্দেশ’ থাকার অজুহাতে তা গ্রহণ করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উল্টো সভারেন্টির শিক্ষার্থীদের হয়রানি করছে, গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নিচ্ছে এবং আদালত জামিন দিচ্ছে না।
সভারেন্টির দাবি
স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে—
১. প্রথম হামলাকারী উপজাতি ও তাদের দোসর রাখাল রাহা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মামলা নিতে হবে এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
২. স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
৩. গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে ও পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
৪. স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে জাতীয় উদ্বেগ
সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যদি ‘আদিবাসী’ পরিভাষার স্বীকৃতির মাধ্যমে উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সফল হয়, তাহলে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হতে পারে। ফলে বাংলার বুকে ‘জুম্মল্যান্ড’ নামে আরেকটি ইসরাইল অথবা ভারতের সেভেন সিস্টার্সের সাথে সংযুক্ত একটি অষ্টম সিস্টার রাজ্য গঠিত হতে পারে।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির আন্দোলনে সরকার ও দেশবাসীর সমর্থন জরুরি।
-পার্বত্য সময়


