বান্দরবান জেলায় এক লাখ ২১ হাজার শিশুকে টাইফয়েডের টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে জেলার প্রায় ৬৫ শতাংশ শিশু-কিশোরের অনলাইন নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বান্দরবান সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

সিভিল সার্জন বলেন, “৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশু-কিশোর এবং প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ১ ডোজ টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হবে। এই টিকা শিশুদের ৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেবে।”

তিনি আরও জানান, টিকা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জেলার ৩৮৪টি টিকাদান কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অভিভাবকরা নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের টিকা দিতে পারবেন। যারা অনলাইনে নিবন্ধন করেননি, তারাও সরাসরি টিকাকেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে পারবেন।

জেলা তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. সেলিম উদ্দিন, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) হৃদয় মাহমুদ চয়ন, বান্দরবান প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এন এ জাকিরসহ স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।

সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, সরকারের ইপিআই কর্মসূচির আওতায় আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন চলবে। এর মধ্যে ১২ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এবং ১ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত গ্রামীণ কমিউনিটি ক্লিনিকে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

টাইফয়েড জ্বর বাংলাদেশের পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় এখনো জনস্বাস্থ্যের বড় হুমকি। পরিষ্কার পানি ও স্বাস্থ্যবিধির অভাবে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি। এমন প্রেক্ষাপটে বান্দরবানে এই গণটিকাদান উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।