রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার কলেজপাড়া গ্রামের বাবা উসাইমং ও মা ডেইজি মারমার একমাত্র সন্তান উক্য সাইন মারমা। মা-বাবার চোখের মণি, স্বপ্ন ছিল সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হবে সে। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে বান্দরবানের স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে পড়তে যায় রাজধানী ঢাকায়, উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হোস্টেলে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছিলো ক্যাডেট কলেজে ভর্তির জন্য। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণ আর হলো না।
সোমবার (১৪ জুলাই) ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হলে পাশের শ্রেণিকক্ষে থাকা সপ্তম শ্রেণির ছাত্র উক্য সাইন মারমা গুরুতর দগ্ধ হয়। শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গেলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। সেখানেই রাত দুইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
উক্য সাইন মারমার বাবা উসাইমং মারমা রাঙামাটির রাজস্থলী উপজাতীয় আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং মা ডেইজি মারমা বান্দরবানের রুমা উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। সন্তানকে ভালোভাবে গড়ে তুলতেই তাঁরা বান্দরবান থেকে ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন।

বাবা মায়ের সাথে উক্য সাইন মারমা


উক্য সাইন বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর ক্যাডেট কলেজের জন্য প্রস্তুতি নিতে ঢাকায় যায়। ভর্তি না হতে পারলেও থেমে যায়নি তার চেষ্টা। সেনা কর্মকর্তার স্বপ্ন তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল, কারণ মায়ের পরিবারের অনেকেই রয়েছেন সেনাবাহিনীতে।
তার চাচা থুই সা চিং মারমা বলেন, “ছেলেটার সব স্বপ্ন, স্বপ্ন হয়ে রইল। মা-বাবার আর কিছু রইল না।”
মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ নিয়ে পরিবার রওনা দেয় রাঙামাটির রাজস্থলীর বাড়ির উদ্দেশে। এলাকাবাসী জানান, উক্যর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।
রাজস্থলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উথিনসিন মারমা বলেন, “এটা শুধু উক্যর পরিবারের ক্ষতি নয়, পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি। এত অল্প বয়সে এমন মৃত্যু হৃদয় ভেঙে দেয়।”
সূত্র- প্রথম আলো।