রাঙামাটির সদর উপজেলার মৌনপাড়া এলাকায় সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল চলাকালে ইউপিডিএফ (প্রসীত গ্রুপ)-এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীদের গুলিতে একজন সেনা সদস্য আহত হন। পরে সেনাবাহিনীর অভিযানে তিনজন সন্ত্রাসীকে অস্ত্র-গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেএসএসকে দোষারোপ করে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে বলে জনসংহতি সমিতি- জেএসএস (সন্তু) পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সেনাবাহিনীর ওই অভিযান নিয়ে ইউপিডিএফ'র এক অনলাইন মুখপাত্রে বলা হয়, "রাঙামাটির কাউখালি উপজেলাধীন ঘাগড়া ইউনিয়নের কোজোইছড়ি মোনে (পাহাড়ে) সেনাবাহিনী ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু গ্রুপ যৌথভাবে এক অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সময় সেনা-সন্তু গ্রুপের নির্বিচারে ছোঁড়া গুলিতে এক গ্রামবাসী (জুমচাষী) গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।" এ ঘটনায় ৩ জন আটক হওয়ার কথাও স্বীকার করে তারা।

ছবি : গ্রেফতারকৃত ৩ ইউপিডিএফ সদস্য

ইউপিডিএফের এ দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা আখ্যা দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেএসএস নেতা বলেন, এটাই প্রসীতদের চরিত্র। ওদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্যই পাহাড় থেকে সেনা হটানোর আন্দোলন গতি পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, জেএসএস কেন সেনা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযানে যাবে? প্রসীতরা কি মনে করে ওদের চেয়ে পাহাড়ে জেএসএস'র শক্তি কম? আর জেএসএস যদি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করতো, তাহলে ইউপিডিএফের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যেত না।

এছাড়াও জেএসএস নিয়ন্ত্রনাধীন সামাজিক মাধ্যমের পেজগুলো থেকেও ইউপিডিএফের এ দাবিকে মিথ্যাচার বলে সমালোচনা করা হয়।

তবে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জানা যায়, গতকাল ২৩ জুন সন্ধ্যা ৬টায় রাঙামাটি জেলার ফুরোমন সেনাবাহিনীর ক্যাম্প থেকে একটি পেট্রোল (সেনাটহল) বের হয়। এই পেট্রোলটি বের হবার পর সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে ইউপিডিএফ-এর একটি অজ্ঞাত নাম্বার থেকে ইউপিডিএফ’র কমান্ডার পরিচয় দিয়ে পেট্রোল কমান্ডারকে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। সেনাবাহিনীর ওই পেট্রোল কমান্ডার ইউপিডিএফ’র হুমকিতে এলাকা ছেড়ে না গিয়ে তিনি ইউপিডিএফকে চ্যালেঞ্জ করেন।

সেনাবাহিনী ও জেএসএসকে মিলিয়ে ইউপিডিএফের মিথ্যাচার

একই সময়ে সেনাবাহিনীর অন্যান্য ক্যাম্প থেকে আরো পেট্রোল বের হয়ে এসে কুতুকছড়ি ব্লকড করে ফেলে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাসি চালাতে থাকেন। ভোর ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর দলটি স্থানীয় মইনপাড়া স্কুলে রেইড (অভিযান) করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়।

এই গোলাগুলিতে টিকতে না পেরে ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সামান্য আহত হন। আহত সৈনিককে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র সহ তিন ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে একটি এসএমজি, ১২টি বিস্তলের গুলি, ৪৬টি রাইফেলের গুলি ও দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয় বলে জানা যায়।