পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও সশস্ত্র পুনর্বিন্যাসকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট- ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর একটি বড় অংশ অস্ত্রসহ জনসংহতি সমিতিতে- জেএসএস-(সন্তু) যোগ দেওয়ার খবর এবং পরবর্তীতে দলের পাল্টা সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর ৩৫ জন সশস্ত্র সদস্য মোট ৩৭টি অস্ত্রসহ খাগড়াছড়ি থেকে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার দেওয়ানপাড়া এলাকায় জেএসএস (সন্তু) গ্রুপে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) বিলুপ্ত ঘোষণা করে জেএসএস (সন্তু)-এর সাথে একাত্ম হওয়ার দাবি করা হয়।
তবে এই ঘটনার পরদিন শনিবার (১৭ জানুয়ারি) খাগড়াছড়ি সদরস্থ দলীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির একাংশ। সেখানে তারা সংগঠন বিলুপ্তির খবরটিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে উড়িয়ে দেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ দাবি করেন- সংগঠনের পলাতক সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। দলীয় পদ হারানোর নিশ্চিত সম্ভাবনা থেকেই তিনি তার অনুগত ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য নিয়ে জেএসএস (সন্তু)-এ যোগ দিয়েছেন।
বক্তারা বলেন, ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) এই নেতাদের প্রশ্রয়ে বান্দরবানেই ইয়াবা তৈরী হচ্ছে। ইয়াবা তৈরির মেশিনও তাদের আছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তারা।
তাদের দাবি, ছড়িয়ে পড়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনহীন এবং বিভ্রান্তিকর।
এই দলবদল ও পাল্টা দাবির ঘটনায় পার্বত্য এলাকায় সশস্ত্র সংগঠনগুলোর ভেতরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও পুনর্গঠনের রাজনীতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের দলবদল ও অস্ত্রের হাতবদল পাহাড়ে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।


