পাহাড়ের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের আভাস মিলছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে এবার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। একই দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনরত জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)-র নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)-এর সঙ্গে এই দলটির ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ কোনো চুক্তির সম্ভাবনা ঘিরে পাহাড়ি রাজনীতিতে চলছে জোর জল্পনা।
রোববার (৪ মে) ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক স্মরণসভায় নেতারা পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে পাহাড়িদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। নেতারা বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের নামে রাষ্ট্র পাহাড়িদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এখন সময় এসেছে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ের আন্দোলন জোরদার করার।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) ও জেএসএস-এর মধ্যে সম্ভাব্য ঐক্যর পেছনে একটি কৌশলগত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে, তা হলো, পার্বত্য রাজনীতিতে জেএসএস এর প্রধান প্রতিপক্ষ প্রসীত খীসার ইউপিডিএফ-কে কোণঠাসা করা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউপিডিএফ (প্রসীত) এক নেতা বলেন, “আজ সবাই পাহাড়িদের অধিকারের কথা বলছে, কিন্তু সত্যিকারের লড়াইয়ে কে আছে সেটা জনগণ বুঝে গেছে। যারা একসময় চুক্তির বিরোধিতায় জন্ম নিয়েছিল, তারাই এখন চুক্তির বাস্তবায়নের কথা বলছে! এটি আদর্শচ্যুতি নয় তো কী?”
তিনি আরও দাবি করেন, ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) মূলত সন্তু লারমার ছায়াতলে রাজনীতি করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর সাম্প্রতিক অবস্থান পরিবর্তন ও জেএসএসের প্রতি ইতিবাচক ইঙ্গিত মূলত অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক প্রয়াস। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে প্রসীত খীসার ইউপিডিএফ, বিশেষ করে যুব সমাজের মধ্যে দলটির প্রভাব বেড়েছে। এ অবস্থায় দুই ভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে আসন্ন কোনো সমঝোতা পাহাড়ি রাজনীতিতে বড় রদবদলের ইঙ্গিত হতে পারে।
এ বিষয়ে এখনো ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) বা জেএসএস-এর শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

-পার্বত্য সময়