দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে চট্টগ্রাম পাহাড়ে সক্রিয় সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ-এর (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ মে) রাজধানীতে ইউপিডিএফ-এর সঙ্গে বৈঠকটি হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এর আগে গত ১০ মে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ইউপিডিএফ-এর সঙ্গে এক প্রাথমিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে পরবর্তী বৈঠকের দিন হিসেবে আজকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এ বৈঠকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তীব্র বিরোধিতা শুরু হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, নাগরিক এবং শিক্ষার্থী মহল থেকে।
এ প্রসঙ্গে জুলাই মঞ্চ থেকে অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং শাক বলেন, “যে সংগঠন সেনাবাহিনীর সদস্যদের হত্যা করেছে, সাধারণ মানুষকে টার্গেট করেছে, তাদের সঙ্গে কীভাবে একটি রাষ্ট্রীয় কমিশন সংলাপে বসে? এটি তো তাদেরকে পরোক্ষ স্বীকৃতি দেওয়ার শামিল।”
তিনি ১৫ মে ইউপিডিএফ-এর সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল, ঐকমত্য কমিশন থেকে ড. ইফতেখারসহ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সহযোগীদের অপসারণ, ইউপিডিএফ, জেএসএস, কেএনএফ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করাসহ ৫ দফা দাবি করেন।
রবিবার (১১ মে) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’ আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে ইউপিডিএফ-এর সঙ্গে সরকারের বৈঠকের প্রতিবাদ জানানো হয়। ওই সমাবেশেও ইউপিডিএফসহ পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
এছাড়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ, নাগরিক পরিষদসহ একাধিক সংগঠন একযোগে ইউপিডিএফ, জেএসএস ও কেএনএফ-এর সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়। তারা বলছে, এই সব সশস্ত্র সংগঠনগুলো দেশের অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। তবে অনেকেই বলছেন, শুধু বৈঠক বাতিল করলেই চলবে না, সরকারকে এখনই সুনির্দিষ্টভাবে পাহাড়ি অঞ্চলে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
সরকারি কোনো সূত্র এখন পর্যন্ত বৈঠক বাতিলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, জনমত বিবেচনায় কমিশন আপাতত ইউপিডিএফ-এর সঙ্গে আলোচনা থেকে সরে এসেছে।
জাতীয় ঐকমত্যের নামে যারা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে, তাদের ভূমিকাও এখন প্রশ্নের মুখে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনাটি প্রমাণ করে, রাষ্ট্রীয় সংলাপের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ জরুরি।
-পার্বত্য সময়


