এককালীন ৫ কোটি টাকা ও মাসিক ৩৪ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গত এক মাসে রবি এয়ারটেলের ২১টি মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার এবং টেকনিশিয়ান অপহরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চাঁদা দাবির এ অভিযোগ প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইউপিডিএফ-এর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় একটি টাওয়ার মেরামত করতে গিয়ে তিন সন্তানের জনক এক টেকনিশিয়ানকে অপহরণ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অপহৃত ব্যক্তি রবির সিকিউরিটি পার্টনার হাইজিন সার্ভিস লিমিটেডের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী ছিলেন। খাগড়াছড়ির পানছড়ির ৩ নম্বর টাওয়ারে জেনারেটর মেরামতের সময় তাকে ইউপিডিএফ সদস্যরা তুলে নেয়। অপহরণকারীরা মুঠোফোনে রবি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে টাকা দাবি করছে বলে জানা গেছে। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, পানছড়ি থানার ওসি জসিম উদ্দিন বিষয়টি তদন্তাধীন বলে নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে সাউথ-ইস্ট এশিয়া জার্নাল।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, স্থানীয় সূত্রমতে, ইউপিডিএফ গত কয়েক মাস ধরে রবি ও অন্যান্য মোবাইল অপারেটরদের কাছে চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসিক ৭০ লাখ থেকে ৩৪ লাখ টাকা ও এককালীন ৫ কোটি টাকা দাবি করছে। দাবি পূরণ না হওয়ায় রাঙামাটির নানিয়ারচর, খাগড়াছড়ির সদর, দীঘিনালা, মহালছড়ি ও পানছড়িতে টাওয়ারের যন্ত্রপাতি ভাংচুর, ব্যাটারি লুট ও জেনারেটরে অগ্নিসংযোগ করেছে গোষ্ঠীটি। এতে রবি ও তার সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভ্যন্তরীণ হিসাবে উঠে এসেছে।
পার্বত্য তিন জেলায় রবির ৩২০টি টাওয়ার স্থানীয় সম্প্রদায়ের ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা বাড়ালেও চাঁদাবাজির ঘটনায় সেবা ব্যাহত হচ্ছে। রবির সাথে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, "ই-কমার্স, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় মোবাইল নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সন্ত্রাসী তৎপরতা জনগণের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করছে।"
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরা সীমান্তে ইউপিডিএফ-এর কয়েকজন সদস্য একে-৪৭ রাইফেলসহ আটক হওয়ার পর গোষ্ঠীটির আন্তর্জাতিক অস্ত্র চোরাচালানের তথ্য প্রকাশ পায়। অভিযোগ রয়েছে, পার্বত্য অঞ্চল থেকে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতীয় সীমান্তে টাকা পাচার করে অস্ত্র কেনা হচ্ছে, যা দিয়ে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা চলছে।
খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল অপহরণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী তৎপরতা রোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উন্নয়ন প্রকৃতিতে তদারকির দাবি জানানো হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউপিডিএফ-এর এই সন্ত্রাসী তৎপরতা কেবল ব্যবসায়িক ক্ষতিই নয়, ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকেও বাধাগ্রস্ত করছে। স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে কঠোর পদক্ষেপ ও সামাজিক সচেতনতা জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
-পার্বত্য সময়


