রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইহাট বাজারে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় ইউপিডিএফ (প্রসীত) সংগঠন পণ্য ব্যবসার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর ফলে স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে গেছে।
রবিবার (৮ জুন) বাঘাইছড়ির সাজেক ও বঙ্গলতলী ইউনিয়নে সংগঠনটির নির্দেশে সাপ্তাহিক হাট বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউপিডিএফ (প্রসীত) এর সাজেক ও বঙ্গলতলী এরিয়া কমান্ডার গঙ্গা বাবু ওরফে অক্ষয় চাকমার নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সম্প্রতি ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর বিরুদ্ধে অব্যাহত চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে বাঘাইহাট জিপ/পিকআপ মালিক সমিতি সড়ক অবরোধ করে এবং পণ্যবাহী যান চলাচলে বাধা দেয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইউপিডিএফ (প্রসীত) বাঘাইহাট বাজার বর্জনের ঘোষণা দেয়।
এছাড়াও সংগঠনটি কাঠ, বাঁশ, উলু ফুলসহ অন্যান্য পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যা বিশেষভাবে সাজেক ও বঙ্গলতলী এলাকার সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালি জনগণের জীবন-জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই পণ্যগুলোই তাদের প্রধান আয়ের উৎস ছিল, যা এখন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
বাজারের ব্যবসা বন্ধ থাকায় ছোট ব্যবসায়ী ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষজন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকে আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের একতরফা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পাহাড়ে নতুন করে সামাজিক উত্তেজনা ও সংঘাত তৈরি করতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল ও ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
--পার্বত্য সময়


