আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় অতীত সময়ের চেয়েও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট- ইউপিডিএফ (প্রসীত)। নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ না পেলেও বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামার খবরে পাহাড়জুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সশস্ত্র গোষ্ঠীর আনাগোনা।

জাতীয় সংবাদমাধ্যম ইনকিলাবের খবরে বলা হয়- স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই তিন পার্বত্য জেলায় কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর যোগাযোগ ও সমর্থনের তথ্য সামনে আসছে। এতে করে নির্বাচন ঘিরে পাহাড়ে সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাহাড়ের বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, ইউপিডিএফ (প্রসীত) দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য এলাকায় চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সশস্ত্র তৎপরতার সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হলে সংগঠনটি রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে, যা পাহাড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

একাধিক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, নির্বাচনের সময় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা শুধু পাহাড়ে নয়, সমতলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর তৎপরতার বিষয়ে কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিরোধিতা করে ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ আত্মপ্রকাশ করে। সংগঠনটি পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘পূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার’ বা স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনের কথা বললেও বিভিন্ন সময় তাদের বিরুদ্ধে পাহাড়ি-বাঙালি বিভাজন উসকে দেওয়া, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং সহিংস তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত এবং তারা পাহাড়ের বাইরে অবস্থান করে অনলাইন ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সংগঠনটির অঙ্গসংগঠনগুলোর মাধ্যমে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া, পাহাড়ের কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় দিবস পালনে বাধা দেওয়া, শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে প্রভাবিত করার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এর ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তি ও চরমপন্থী চিন্তার বীজ বপন করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন সামনে রেখে পাহাড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়লে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়বে। তারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।