পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের অধিকার ও আন্দোলনের পথে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) চরম অন্তরায়- এমন অভিযোগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)-এর সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাঙামাটির আশিকা কনভেনশন কক্ষে জেএসএস-এর ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ঊষাতন তালুকদার বলেন, ইউপিডিএফ কোনো বিষয়ে আলোচনায় আসে না। অথচ তারাই বারবার প্রশ্ন তোলে- এত বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন হবে। তার দাবি, এই অবস্থান বাস্তবে পাহাড়িদের আন্দোলনকে দুর্বল করছে।

তিনি আরও বলেন, যে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল, শুরুতে তারা আন্তরিক ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে চুক্তি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন বিভাজনমূলক দল গঠন করা হয়।

জেএসএস প্রসঙ্গে ঊষাতন তালুকদার বলেন, আমাদের সংগঠনের নাম শান্তিবাহিনী নয়- এই নাম জনগণই দিয়েছে। এখন জুম্ম জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে- কারা প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করছে। সংগঠনের ওপর আস্থা না থাকলে জনগণ আমাদের সঙ্গে এগোবে না।

দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার গঠন হলে পাহাড়িদের স্বার্থে কী করা যাবে- এ প্রশ্ন অনেকেই করেন। কিন্তু সংগঠিত না হলে কোনো সরকারই পাহাড়িদের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না। নিজেদের দায়বদ্ধতা, শৃঙ্খলা ও সচেতনতা জরুরি। এই সংগঠন জনগণের জন্য, চাপিয়ে দেওয়া শৃঙ্খলা নয়- স্বতঃস্ফূর্ত দায়িত্ববোধই আমাদের শক্তি, বলেন তিনি।

বিভেদপন্থী ও জুম্ম স্বার্থবিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেএসএস রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি গঙ্গা মানিক চাকমা।

সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, এম এন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি এম এন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন-এর প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা এবং সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক-এর সভাপতি শান্তি বিজয় চাকমাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।