রাঙামাটির সদর উপজেলার কুতুকছড়ি ইউনিয়নে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই নারী আহত হয়েছেন। নিহত ধর্মশিং চাকমা (৩২) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন।
ধর্মশিং চাকমা রাঙামাটি সদর উপজেলার আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম ধনঞ্জয় চাকমা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোর আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে কুতুকছড়ি ইউনিয়নের একটি আবাসিক এলাকায় নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কাউখালি উপজেলার দিক থেকে রাঙামাটি সদরের সাপছড়ি ইউনিয়নের নারাছড়ি এলাকা হয়ে জেএসএস সন্তুর গ্রুপ কমান্ডার বিপ্লব চাকমার নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল কুতুকছড়িতে প্রবেশ করে। তারা সুযোগ বুঝে ধর্মশিং চাকমার ওপর হামলা চালিয়ে দ্রুত সরে পড়ে।
গুলির ঘটনায় নিহতের দুই বোন -কৃপাসোনা চাকমা (৪৫) ও ভাগ্যশোভা চাকমা (৩১) গুলিবিদ্ধ হন। তারা বাড়ির উঠানে কাজ করার সময় গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে। একজনের হাতের তালু এবং অন্যজনের কব্জিতে গুলি লাগে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বড় বোনের জামাতা বলোভদ্র চাকমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
ঘটনার পর ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এক বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য জেএসএস (সন্তু) গ্রুপকে সরাসরি দায়ী করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জেএসএস সভাপতি সন্তু লারমার নির্দেশে সশস্ত্র বাহিনী এ হামলা চালিয়েছে। তারা অভিযোগ করে, আঞ্চলিক পরিষদের নেতৃত্বে থেকে সন্তু লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূলের লক্ষ্যে এ ধরনের হামলা পরিচালিত হচ্ছে।
বিবৃতিতে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সন্তু লারমাকে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে অপসারণ করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বানও জানানো হয়।
তবে এ বিষয়ে জেএসএস (সন্তু)- এর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পার্বত্য সময়


