রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার চারটি উপজেলায় একটি বেসরকারি মোবাইল অপারেটরের ২১টি টাওয়ারে হামলা চালিয়ে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করেছে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা না পেয়ে এই হামলা চালানো হয়। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পিসিসিপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইউপিডিএফের সন্ত্রাসী হামলার কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, মানিকছড়ি, মাটিরাঙ্গা এবং রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে লক্ষাধিক গ্রাহক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
২২ জানুয়ারি ভোররাতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, মানিকছড়ি, মাটিরাঙ্গা এবং রাঙামাটির নানিয়ারচরসহ বিভিন্ন এলাকায় ২১টি মোবাইল টাওয়ারে হামলা চালায়। তারা সার্ভার রুমে ভাঙচুর চালিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং মূল্যবান যন্ত্রপাতি লুট করে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে, ২৭ জানুয়ারি থেকে মোবাইল সংযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হলেও, মাত্র দুই-তিন দিনের ব্যবধানে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, মিটার ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে টাওয়ারগুলোকে অকার্যকর করে ফেলে ইউপিডিএফের সদস্যরা। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, পাহাড়ে সক্রিয় উপজাতীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে প্রতি মাসে প্রায় ৭০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য হয় মোবাইল অপারেটরটি। সম্প্রতি ইউপিডিএফ এ চাঁদার পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়ানোর পাশাপাশি এককালীন ৫ কোটি টাকা দাবি করে। অপারেটরটি এত বিপুল পরিমাণ অর্থ দিতে অপারগ হলে ইউপিডিএফ ২১টি মোবাইল টাওয়ারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে, ব্যাটারি লুট করে এবং জেনারেটর পুড়িয়ে ফেলে।
এই হামলার ফলে মোবাইল অপারেটর ও তাদের অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এতে ক্ষান্ত না হয়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার বিকেলে নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধারের কাজে নিয়োজিত রাঙামাটির এক পাহাড়ি প্রকৌশলীকে অপহরণ করে ইউপিডিএফ। তিনি তিন সন্তানের জনক এবং রাঙামাটি শহরের বাসিন্দা।
বিবৃতিতে পিসিসিপি’র নেতৃবৃন্দ বলেন, “বেসরকারি মোবাইল অপারেটরের একজন প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীরা মোবাইল টাওয়ার অপারেটরদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিল। তাদের দাবি মানা না হলে তারা টাওয়ারে হামলা চালায়। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।”
পিসিসিপি আরও জানায়, ইউপিডিএফ হুমকি দিয়েছে, দাবি পূরণ না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের হামলা চালানো হবে।
পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ বলেন, “এই হামলা শুধুমাত্র পার্বত্য এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে না, বরং ডিজিটাল অবকাঠামোকে চাঁদাবাজি ও সহিংসতার হাতিয়ারে পরিণত করার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।”
তারা আরও বলেন, “এত বড় সন্ত্রাসী হামলার পরও বিভিন্ন মহল ও তথাকথিত সুশীল সমাজের নীরবতা লজ্জাজনক।”
পিসিসিপি’র নেতারা সরকারের কাছে ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
-পার্বত্য সময়


