দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইউপিডিএফের নানা বাধা ও হুমকির মুখেও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো লংগদু-নানিয়ারচর সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ। মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকাল থেকে কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বহু প্রত্যাশিত এই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করল রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ।
জেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা- লংগদু, বাঘাইছড়ি ও নানিয়ারচরকে রাঙামাটি সদর, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-মহালছড়ি এবং চট্টগ্রামের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করতে ৩৭.৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ‘বগাছড়ি-নানিয়ারচর-লংগদু’ আঞ্চলিক সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। তবে শুরু থেকেই এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় অবৈধ অস্ত্রধারী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।
প্রচলিতভাবে পাহাড়ে উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা দেওয়া ইউপিডিএফ এবারও একই পথ ধরে। ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে সড়কবিরোধী বিভিন্ন প্রচারণা, হুমকি ও মাঠপর্যায়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হলেও জনসমর্থন এবং প্রশাসনিক সাহসিকতায় সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সংগঠনটির কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উদ্বোধনী দিনে লংগদু উপজেলার ডজারপাড়া ইস্টিল ব্রিজ এলাকা ছিল উৎসবমুখর। স্থানীয় মানুষজন, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও জনপ্রতিনিধিরা ভিড় জমিয়ে অংশ নেন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রকৌশলী মোঃ এরশাদ, পরিষদের সদস্য মিনহাজ মুরশীদ, লংগদু উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, জামায়াতের আমির নাছির উদ্দিন, বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ, মাইনীমুখ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কমল হোসেন ও প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবি এস মামুনসহ অসংখ্য গণ্যমান্য ব্যক্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পরিষদের সদস্য মিনহাজ মুরশীদ বলেন, "ইতিপূর্বেও আমরা জনগণের দাবি পূরণে চেষ্টা করেছি। এবারও সকল বাধা উপেক্ষা করে সরকার এই সড়ক বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়েছে। এটি তিন উপজেলার মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক মুক্তির দ্বার খুলে দেবে।"
সড়কটি নির্মিত হলে পাহাড়ি জনপদের প্রায় তিন লাখ মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষকরা সহজে কৃষি ও ফলজ পণ্য বাজারজাত করতে পারবেন, চিকিৎসা ও শিক্ষাসেবা হবে দ্রুত ও সহজলভ্য, বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ও পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে।
নানিয়ারচর কলেজের শিক্ষার্থী ত্বনয়া চাকমা বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ দুর্ভোগে ভুগছি। এই সড়ক নির্মিত হলে নিরাপদে কলেজে যাতায়াত করা যাবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা উন্নয়নের পথ সুগম হবে।"
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, এই প্রকল্পের ১৩.৮২ কিলোমিটার অংশ ইতোমধ্যেই পাকা করা হয়েছে, আর বাকি ২৩.৭০ কিলোমিটার অংশ দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, “শুকনো মৌসুমে নদীপথে যাতায়াতে সমস্যার কারণে এই সড়ক অত্যন্ত জরুরি। এটি বাস্তবায়িত হলে জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষার্থী যাতায়াত ও ব্যবসায়িক চলাচলে বিপ্লব ঘটবে।”
-পার্বত্য সময়


