খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার পাহাড়ি অধ্যুষিত বকরিপাড়া এলাকায় ফের বাঙালি কৃষকের ওপর হামলা চালিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত) সন্ত্রাসীরা। তাদের এই তৎপরতাকে স্থানীয়রা পাহাড়ে নতুন করে দাঙ্গা উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন।
শনিবার (৪ অক্টোবর) ভোররাতে ইউপিডিএফ (প্রসীত) দলের স্থানীয় পোস্ট পরিচালক রয়েল মারমার নির্দেশে ৬–৭ জন সন্ত্রাসী কৃষক মো. হাসেমের ৫ একর জমির সবজি ক্ষেত ও ফলজ বাগানে হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাউক্ষেত কেটে ফেলে, আম, কলা, সুপারি ও পেয়ারা গাছ উপড়ে ফেলে এবং বাঁশ, কাঠ ও টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি টংঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়।
ক্ষতির তালিকা অনুযায়ী, প্রায় ২০ শতাংশ লাউক্ষেত, ৫০–৬০টি কলাগাছ, ৫টি আমগাছ, ৫০–৬০টি ছোট সুপারি গাছ, ২টি পেয়ারা গাছ এবং বসবাসযোগ্য টংঘর ধ্বংস হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব গচ্ছাবিলের বাসিন্দা মো. হাসেমের জমিটি তার বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে বকরিপাড়া এলাকায় অবস্থিত—যে এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ইউপিডিএফ (প্রসীত) সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা স্থানীয় বাঙালিদের চলাচলে বাধা দেয় এবং অনেক সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা নিয়মিতভাবে বাঙালিদের আতঙ্কে রাখার চেষ্টা করছে। পাহাড়ে আবারও জাতিগত দাঙ্গা উসকে দেওয়ার পেছনে তাদেরই ভূমিকা।”
এলাকাবাসীর দাবি, বাঙালি কৃষকরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে—এমন সন্দেহে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা প্রতিশোধমূলকভাবে এই হামলা চালিয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

-পার্বত্য সময়