সংবিধান সংস্কারে পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবি উপেক্ষিত হলে ‘নতুন করে সংকট ও সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হবে’ বলে সতর্ক করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।
শনিবার (১০ মে) জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে সংলাপ শেষে ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমা বলেন, “আমরা বলেছি, যেন ১৯৭২ সালের মতো ভুল আর না হয়। যেন সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান হয়। তা না হলে ফের নতুন সংকট তৈরি হবে।”
তিনি জানান, সংলাপে ইউপিডিএফের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টায় সংলাপ মূলতবি হয়। পরবর্তী বৈঠক ১৫ মে বিকেলে হওয়ার কথা রয়েছে।
সংবিধানে স্বায়ত্তশাসনের দাবি উপেক্ষিত হলে নতুন সংঘাত হবে—এ মন্তব্যকে হুমকি হিসেবে দেখা যায় কিনা, এমন প্রশ্নে মাইকেল চাকমা বলেন, “এটা হুমকি নয়, বাস্তবতা। যদি ১৯৭২ সালের সংবিধানে সমস্যাটির সমাধান করা হতো, তাহলে আমরা পরবর্তী সময়ে এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তাম না।”
সংবিধান সংস্কারে কমিশনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে চারটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার যে প্রস্তাব এসেছে, সেটিকে স্বাগত জানিয়ে মাইকেল চাকমা বলেন, “যদি চারটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হতে পারে, তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন নয়? আমরা বলেছি, একে ‘বিশেষ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল’ ঘোষণা করা হোক।”
ইউপিডিএফকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলা হয়ে থাকে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের গঠনতন্ত্র আছে। আমরা কি নিয়ে রাজনীতি করি, তা আমাদের কাজেই প্রতিফলিত হয়। কে কী বলছে তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই।”
১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তিকে “দুর্বল” আখ্যা দিয়ে মাইকেল চাকমা বলেন, “সাংবিধানিক স্বীকৃতি না থাকায় সরকার চাইলে যেকোনো সময় চুক্তি বাতিল করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন শর্তের কারণে আমাদের পক্ষে নিবন্ধন পাওয়া সম্ভব নয়। আঞ্চলিক দলগুলোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে।”
ইউপিডিএফ চায়, যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হোক। “সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করে গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের” পক্ষে মত দিয়েছে দলটি।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বর্তমানে সংবিধান ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত সংগ্রহ করছে। অধ্যাপক আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে ও মনির হায়দারের সঞ্চালনায় শনিবারের সংলাপে কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সফর রাজ হোসেন, বদিউল আলম মজুমদার, ইফতেখারুজ্জামান ও মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

-পার্বত্য সময়