খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি আর্য্য কল্যাণ বনবিহারে বুধবার (২৯ অক্টোবর) পুনরায় কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই বিহারে দ্বিতীয়বার এই বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর কৌতূহল ও নানা প্রশ্ন দানা বেঁধেছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বর্মাছড়ির এই বিহারে গত ২১ ও ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে একবার কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সাধারণত, বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রতিটি বিহারে বছরে একবারই এই পবিত্র অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় আয়োজন করায় এর উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
আজকের অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীধন চাকমার সভাপতিত্বে প্রায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর সমাগম হয়েছে বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি জেলার ঐতিহ্যবাহী রাজবন বিহারের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির, নানিয়ারচর উপজেলার ত্রিরত্নাঙ্কুর বন বিহারের অধ্যক্ষ বিশুদ্ধানন্দ মহাস্থবিরসহ প্রায় ৩০ জনেরও অধিক জ্যেষ্ঠ ভিক্ষু ও মহাস্থবির অংশ নিচ্ছেন।
অনুষ্ঠানটি ধর্মীয় হলেও এর পেছনের উদ্দেশ্য ভিন্ন বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একটি বড় অংশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সম্প্রতি লক্ষ্মীছড়ির বর্মাছড়ি মুখ পাড়ায় সেনাবাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল।
তারা মনে করছেন, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এই সেনা ক্যাম্প স্থাপনে বাধা প্রদানের লক্ষ্যেই লোক সমাগমের কৌশল হিসেবে পুনরায় এই কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তাদের মতে, একটি বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশের আড়ালে ইউপিডিএফ মূলত প্রস্তাবিত সেনা ক্যাম্পের বিরুদ্ধে জনমত গঠন ও পরোক্ষভাবে শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে।
একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি এবং প্রবীণ বৌদ্ধ ধর্মগুরুদের অংশগ্রহণকে ব্যবহার করে ইউপিডিএফ ক্যাম্প স্থাপনের বিরুদ্ধে একটি গণপ্রতিরোধের আবহ তৈরি করতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অত্র এলাকায় একটি চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী।
উল্লেখ্য, উত্তেজনা প্রশমনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় সেনাবাহিনী। বিহার থেকে আরও ২ কিলোমিটার দূরে আরেকটি স্থানে আলোচিত ওই অস্থায়ী ক্যাম্প করার সিদ্ধান্ত নেয়।


