বান্দরবানের থানচিতে আরাকান আর্মি ক্যাম্প স্থাপন করেছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। ভিডিওটি ফিলিপাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘মরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট’ (এমআইএলএফ)-এর পুরোনো একটি ভিডিও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে একটি সড়কে চলাচল করতে দেখা যায়। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, তারা বান্দরবানের থানচিতে আরাকান আর্মির সদস্য এবং সেখানে সংগঠনটি ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

তবে অনুসন্ধানে থানচিতে আরাকান আর্মির ক্যাম্প স্থাপনের দাবির পক্ষে দেশের কোনো জাতীয় গণমাধ্যম বা বিশ্বস্ত সূত্রে তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে ‘শুটার চ্যানেল’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে বর্তমানে প্রচারিত ভিডিওটির মিল রয়েছে।

আরও যাচাইয়ে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পোশাকে থাকা ব্যাজের বিষয়টি নজরে আসে। ব্যাজগুলো ফিলিপাইনের ‘মরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট’ (এমআইএলএফ)-এর সদস্যদের পোশাকে ব্যবহৃত প্রতীকের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। ফিলিপাইনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের ছবিতেও একই ধরনের ব্যাজসংবলিত যোদ্ধাদের দেখা যায়।

২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিপাইন সরকার ও দেশটির সবচেয়ে বড় মুসলিম বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বৈঠক হয়। সেখানে অস্ত্র ও সদস্যদের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া তদারকির জন্য তুরস্ক, ব্রুনাই ও নরওয়ের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি আন্তর্জাতিক তদারকি কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।

এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ ফিলিপাইনের দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাতের অবসান এবং মুসলিম-অধ্যুষিত ব্যাংসামোরো অঞ্চলে রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের পথ সুগম করা।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, একই ভিডিও গত বছরও প্রায় একই দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে একাধিক ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ভিডিওটির সঙ্গে বান্দরবানের কোনো সম্পর্ক নেই বলে শনাক্ত করে।