খাগড়াছড়িতে মারমা সম্প্রদায়ের এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পার্বত্য জেলায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। যদিও ঘটনাযর পর মূল আসামি শয়ন শীলকে (১৯) পরদিন সকালেই সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ গ্রেপ্তার করে। আদালতে হস্তান্তরের পর তার বিরুদ্ধে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। বাকি অপরাধীদের ধরতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার পর ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) উখ্যানু মারমার নেতৃত্বে ‘জুম্ম ছাত্র জনতা’ ব্যানারে তিন পার্বত্য জেলায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও মহাসমাবেশের ডাক দেয়। নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চিত করে, উখ্যানু মারমা ইউপিডিএফের প্ররোচনায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও পাহাড়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

রাঙামাটি চাকমা সার্কেলের চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের দ্বিতীয় স্ত্রী ইয়ান ইয়ান রাখাইন তার ফেসবুক আইডি থেকে উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেন। একইভাবে কানাডা প্রবাসী প্রজ্ঞা তাপস চাকমা (ফেসবুক আইডি: PT Chakma) সেনাবাহিনীর ক্যাম্প ঘেরাও করার মতো উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে জনগণকে উত্তেজিত করার প্রয়াস চালান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানি
 

২৬ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলায় ‘জুম্ম ছাত্র জনতা’র ব্যানারে মহাসমাবেশ চলাকালে উখ্যানু মারমার নেতৃত্বে এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা গুজবের কারণে একটি সেনাবাহিনীর টহল দলের উপর হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এতে তিনজন সেনাসদস্য আহত হন।

পরদিন (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় খাগড়াছড়িতে সড়ক অবরোধের সময় ইউপিডিএফের গুলিতে একটি টমটম চালক আহত হন। আলুটিলা পুনর্বাসন এলাকায় একটি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করা হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়।

সেনা সদস্যদের উপর হামলার চেষ্টা
 

দিনের মধ্যে খাগড়াছড়ি পৌরসভার বিভিন্ন পয়েন্টে বাঙালি সম্প্রদায়ের উপর অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে একটি মসজিদে হামলা হয় এবং ১৬–১৭ জন বাঙালি আহত হন, যারা বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্বরনির্ভর বাজারে বাঙালি ব্যবসায়ীদের অন্তত ১০টি দোকান লুটপাট ও ভাঙচুরের শিকার হয়, যার ফলে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন।

জুম্ম ছাত্র জনতা' নামক পেজ থেকে সহিংসতার জন্য ডাক দেওয়া হয়
 

নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, ইউপিডিএফ ধর্ষণের এই ঘটনাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের অংশ হিসেবে উপজাতীয় সম্প্রদায়ের একটি অংশকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে। সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা ও উস্কানিমূলক স্লোগান যেমন ‘পাহাড় থেকে সেনা হটাও’ প্রচার করে তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও পাহাড়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এবি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা থেকে সদর উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেন। তবুও জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবর্ষণ ও ইউপিডিএফের প্ররোচনায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ এবং গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সদস্যরা খাগড়াছড়ি কলেজগেট, পৌরসভা, মহাজনপাড়া, চেঙ্গী স্কয়ার, স্বরনির্ভর, টেকনিক্যাল ও নারানখাইয়া এলাকায় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে নাশকতার চেষ্টা চালায়।

স্থানীয় এক মসজিদে হামলা

নিরাপত্তা বাহিনী পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী সবসময় পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন, শান্তি-সম্প্রীতি রক্ষা, উন্নয়ন ও জনহিতকর কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছে। তবে কিছু আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের চাঁদাবাজি, অপহরণ বাণিজ্য এবং অস্ত্রবাজির কার্যক্রমে বাধার সম্মুখীন হওয়ায় ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন ও সামাজিক মাধ্যমে তথ্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

সচেতন জনগণ ইতোমধ্যে এই ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করছে