বান্দরবানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব 'ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে' (প্রবারণা পূর্ণিমা) শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে বান্দরবানে উজানী পাড়া বুদ্ধ বিহারে ধর্মীয় প্রার্থনার (বন্দনা) মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী সীমিত পরিসরে উৎসবের সূচনা করেন বান্দরবানের বোমাং সার্কেল চীফ ইঞ্জিনিয়ার উচপ্রু চৌধুরী। এ সময় রাজপুত্র বনিসহ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উৎসবের প্রথমদিনে সকালে ধর্মীয় প্রার্থনার পর বুদ্ধমূর্তিতে মঙ্গলজল ছিটানো, ভিক্ষুদের মিষ্টান্ন খাবার প্রদান, প্রণাম করাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালা সম্পন্ন করেন।
বান্দরবান উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি অংচমং মারমা জানান, সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে 'ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে' এবার সীমিত পরিসরে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রতিবছর চার দিনব্যাপী ঝাঁকঝমক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হলেও এবার অনুষ্ঠানমালা কাটছাট করে সীমিত পরিসরে ১৭ ও ১৮ অক্টোবর দু'দিন পালন করা হবে। 
জানা যায়, অনুষ্ঠানসূচি থেকে বাদ দিয়েছেন মারমা শিল্পীগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পিঠা তৈরিও উৎসব। এছাড়া গৌতম বুদ্ধের স্মরণে ফানুসও উড়ানো হবে সীমিত পরিসরে।
এদিকে তিন মাস বর্ষাবাস (উপোস) থাকার পর পাহাড়ি মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব পালন করে আসছে বহুকাল ধরে। প্রচলিত আছে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ এই আশ্বিনী পূর্ণিমায় তার মাথার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাই আশ্বিনী পূর্ণিমার এই তিথিতে আকাশে উড়ানো হয় শত শত ফানুস বাতি। পাহাড়ের মারমা সম্প্রদায়েরা নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী ফানুস বাতি বানিয়ে আকাশে উড়িয়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করে। মারমা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, আকাশে উঠার আগেই যে ব্যক্তির ফানুস মাটিতে পড়ে যায় মারমারা তাকে পাপী লোক হিসেবে চিহ্নিত করে। এ উৎসবে ফানুস উড়িয়ে পাহাড়িরা নিজেদের পাপ মোচন ও পাপী মানুষ খুঁজে বের করে। এ কারণে ফানুস আকাশে উড়ানোর সময় পাহাড়িরা মারমা ভাষায় ‘সাও দো’, ‘সাও দো’ বলতে থাকে। অর্থাৎ শুভ মুক্তি।

  • -পার্বত্য সময়