শুকনো মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে আশঙ্কাজনকভাবে পানি কমতে শুরু করেছে। এর ফলে জেলার বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বরকল উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সড়ক যোগাযোগবিহীন এই তিন উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ হওয়ায়, পানি কমে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং মুমূর্ষু রোগীদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এছাড়া, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সরঞ্জাম পৌঁছানো এবং নিরাপত্তা বাহিনীর যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ হ্রদ ড্রেজিংয়ের জোর দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, দুর্ভোগ কমাতে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে যেন স্বল্প পরিসরে পানি ছাড়া হয়, সেই আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, হ্রদের পানি যাতে দ্রুত শেষ না হয়ে যায়, সেজন্য আগামী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত মাত্র একটি ইউনিট চালু রাখা হবে। তিনি পানি কমে যাওয়ার জন্য হ্রদে দীর্ঘদিন ড্রেজিং না হওয়াকেই মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেন।
উল্লেখ্য, জেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষ জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে সরাসরি এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


