কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্‌গাছড়া চা বাগানে প্রায় ৩০–৩৫টি বন্য হাতির একটি দল টানা দুই দিন ধরে অবস্থান করছে। এতে চা বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতির দলটি চা বাগানের অভ্যন্তরে প্রধান চলাচলপথে অবস্থান নিয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে শুধু চা শ্রমিকই নয়, উজানছড়ি পাড়ার প্রায় ৪০টি পরিবারের সদস্য, নুরুল হুদা কাদেরী উচ্চ বিদ্যালয় ও বরইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যাতায়াত করে থাকেন। হাতির কারণে গত দুই দিন ধরে ওই এলাকার মানুষ সড়ক পথে চলাচল করতে পারছেন না।
ওয়াগ্‌গাছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুর রশীদ কাদেরী বলেন, “এর আগেও প্রায় তিন দিন ধরে এখানে হাতির দল অবস্থান করেছিল। তখন বন বিভাগের সহায়তায় বিভিন্ন কৌশলে তাদের গভীর জঙ্গলে পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই হাতিরা আবার ফিরে এসেছে। এতে শ্রমিকরা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না।”
চা বাগানের পরিচালক খোরশেদুল আলম কাদেরী জানান, বাগানের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কর্ণফুলী নদীতে হাতিরা নেমে গোসল করে এবং পরে আবার বাগানে ফিরে আসে। তিনি বলেন, তাদের স্থায়ীভাবে সরানো না গেলে চা পাতা সংগ্রহ ও অন্যান্য কাজ কঠিন হয়ে পড়বে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জার ওমার ফারুক স্বাধীন জানান, লোকালয়ে প্রবেশ করা বন্য হাতি সরাতে তাদের একটি প্রশিক্ষিত টিম রয়েছে। এর আগেও এই টিম ওয়াগ্‌গাছড়া থেকে হাতির দলকে জঙ্গলে পাঠিয়েছিল। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।
তিনি বলেন, হাতির দলে দুটি বাচ্চা থাকায় তাদের মা-বাবাকে সরানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া, বাগানে প্রচুর বাঁশঝাড় আছে, যার পাতা হাতির প্রধান খাদ্য। খাবারের সন্ধানেই তারা বারবার লোকালয়ে চলে আসছে।
তিনি আরও জানান, গতকাল দুপুরে প্রশিক্ষিত টিমের সহায়তায় বেশিরভাগ হাতিকে জঙ্গলে ফেরানো গেলেও দুটি বাচ্চা হাতি ও তাদের মা-বাবা এখনো বাগানের ভেতর রয়ে গেছে।
ওই ফরেস্ট রেঞ্জার আরও বলেন, হাতির দল আবার ফিরতে পারে। তাই চা শ্রমিক ও স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে এবং কৌশলে হাতিদের জঙ্গলে ফেরাতে সহযোগিতা করতে অনুরোধ জানাচ্ছি। অনেক সময় দীর্ঘ সময় অবস্থানের পর হাতির দল নিজেরাই স্থান পরিবর্তন করে চলে যায়।”
হাতির অবস্থানের কারণে চা শ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের কাজ ও পড়াশোনায় চরম অসুবিধার মুখে পড়েছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, হাতিরা যদি হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠে, তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

-পার্বত্য সময়