পাহাড়ের আকাশ যেন দিনের পর দিন সূর্যকে আড়াল করে রেখেছে। চারপাশ ধূসর, বাতাসে কুয়াশার ভার আর কনকনে ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে রাঙামাটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সকাল থেকে সন্ধ্যা- কুয়াশা আর মেঘের চাদরে ঢাকা পাহাড়ি জনপদে জনজীবন পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার রাঙামাটিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সংস্থাটি জানিয়েছে, জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত ভোর ও রাতের দিকে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি শীতের তীব্রতা আরও কয়েক দিন স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এই শীতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পাহাড়ি এলাকার খেটে খাওয়া মানুষের ওপর। দিনমজুর, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও শিশুরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। কনকনে ঠান্ডায় অনেকেই কাজে যেতে পারছেন না। কোথাও আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম রাখার চেষ্টা, কোথাও আবার পুরনো কাপড় ও কম্বলের ভেতরে গুটিসুটি মেরে বসে থাকার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
শীতের প্রকোপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষি খাতও। কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আহসান হাবিব জানান, তীব্র ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা, শাকসবজি ও অন্যান্য শীতকালীন ফসল কোল্ড ইনজুরির ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি বলেন, নিম্ন তাপমাত্রা ও দীর্ঘ সময় কুয়াশা থাকায় ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শীতের কারণে হাটবাজারেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। শ্রমজীবী মানুষের কাজের সময় কমে যাওয়ায় আয়ের পরিমাণও হ্রাস পাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কেনাবেচায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাজারে স্বাভাবিক লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে এই বৈরী আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও। রাঙামাটির বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। গত কয়েক দিনে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও হাঁপানির সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন অনেকেই। এদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যাই বেশি।
কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ওমর ফারুক রনি জানান, কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। তিনি শীত থেকে সুরক্ষার জন্য গরম কাপড় ব্যবহার, ভোর ও রাতের অতিরিক্ত ঠান্ডা এড়িয়ে চলা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন।
ঘন কুয়াশা ও মেঘে আচ্ছন্ন আকাশের কারণে রাঙামাটিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে শীতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হচ্ছে। কুয়াশার কারণে সকালে সড়কে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ছে, যা যানবাহন চালকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে একই ধরনের শীতল ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। ফলে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।


