তরুণ বিজ্ঞানীদের গবেষণার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ এক গবেষণা ক্ষেত্র—এমন মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। তিনি বলেন, “দেশের এক দশমাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণার অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে। তরুণ বিজ্ঞানীরা চাইলে এখান থেকেই উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রায় বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।”
শুক্রবার (১৬ মে) রাঙ্গামাটি পর্যটন মোটেল মিলনায়তনে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অ্যান্ড বায়োসায়েন্স কার্নিভাল ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ আয়োজন করেছে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি)।
‘ইনোভেশনস অ্যান্ড কোলাবরেশনস ইন বায়োসায়েন্স: বায়োসেফটি অ্যান্ড বায়োসিকিউরিটি ফর সাসটেইনেবল হেলথকেয়ার অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল পারসপেক্টিভ’ প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন ৩৫০ জনেরও বেশি গবেষক ও বিজ্ঞানী। তারা তাদের গবেষণা উপস্থাপন ছাড়াও অংশ নিচ্ছেন বিজ্ঞান বিতর্ক, প্যানেল আলোচনাসহ বিভিন্ন ইনোভেশন বিষয়ক সেশনে।
রাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর ও সম্মেলন আয়োজন কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ও বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমান, বিএমইউ উপাচার্য প্রফেসর ড. শাহিনুল আলম এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার।
প্লেনারি সেশনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান জিন বিজ্ঞানী ও বহুব্রীহি ধানের উদ্ভাবক ড. আবেদ চৌধুরী, আইসিডিডিআরবি’র বায়োসেফটি প্রধান ড. আসাদুল গণি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুনিরা আহসান।
রাবিপ্রবির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন সূচনা আখতার, সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ধীমান শর্মা, প্রক্টর ও ফরেস্ট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাদ্দাম হোসেন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ড. নিখিল চাকমা এবং সহকারী অধ্যাপক ড. সুপ্রিয় চাকমা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কনফারেন্সের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের আয়োজন রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে উদ্ভাবনভিত্তিক গবেষণাগুলোর বাস্তবায়নযোগ্য দিক, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং স্থানীয় প্রেক্ষাপটে প্রয়োগের উপযোগিতা নিয়ে আলোচনার আয়োজন রয়েছে।
-পার্বত্য সময়


