রাঙামাটিতে চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে শহরের বনরূপা থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিলটি প্রধান সড়ক ঘুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে এক সমাবেশে পরিণত হয়।
‘সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ স্লোগানকে সামনে রেখে এই কর্মসূচির আয়োজন করেন বিভিন্ন সংগঠনের ছাত্রনেতা ও সচেতন নাগরিকরা। তারা পাহাড়ে চলমান অস্থিরতা ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. ইমাম হোসেন ইমু, কৃষি ইনস্টিটিউট রাঙামাটির শিক্ষার্থী মো. জালাল উদ্দীন, ‘রেড জুলাই’ নারী অধিকার আন্দোলনের সহ–মুখপাত্র সাদিয়া ইসলাম সায়েদা, এনসিপি রাঙামাটির যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন এবং গণঅধিকার পরিষদ রাঙামাটির সদস্য সচিব ওয়াহিদুজ্জামান রোমান।
বক্তারা বলেন, “এই বিক্ষোভ কেবল একটি একক ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়, এটি বিচারহীনতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। নিরাপত্তার প্রশ্নে রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে নাগরিকদেরকে রাস্তায় নামতেই হয়।”
তারা আরও বলেন, পাহাড়ে নিরীহ জনসাধারণকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি, হত্যা ও অপহরণ চালিয়ে যাচ্ছে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী, যাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সহিংসতা আরও বাড়বে। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, “দেশের কোথাও কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ইন্টারিম সরকারের উচিত—বিশেষ ক্ষমতায় যৌথবাহিনীকে সক্রিয় করে পাহাড়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করা।”
সমাবেশ থেকে বক্তারা আরও দাবি জানান, প্রতিটি হত্যাকাণ্ড ও সহিংস ঘটনার প্রকৃত অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক, আর পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সমাবেশ শেষে আয়োজকরা জানান, সহিংসতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন একদিনের নয়—এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি গণপ্রতিরোধের সূচনা। যদি রাষ্ট্র ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়, তাহলে এই আন্দোলন দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে পড়বে।

-পার্বত্য সময়