চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে কিছু ভারতীয় গণমাধ্যমকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে অতিরঞ্জিত প্রতিক্রিয়া না দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়, বাংলাদেশের নতুন সরকারের অধীনে তারেক রহমানের চীন সফরটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গভীরতার প্রতিফলন। এই সফরে একাধিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়, যা দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্ভাবনাকে আরও সুদৃঢ় করবে।

চীনা দৈনিকটির মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এ অবস্থায় চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অবস্থান করছে এবং দেশটিতে প্রায় এক হাজার চীনা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে।

সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে চীন বাংলাদেশের জন্য ১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দিয়েছে, যা দেশটির কৃষি রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, ব্রুনেই ও ভিয়েতনামের নেতাদের চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়, এটি চীনের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বৃহত্তর প্রবণতার অংশ।

ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমের সমালোচনার বিষয়ে সম্পাদকীয়তে বলা হয়, বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর ভারতকে না হওয়ায় কিছু মহলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, যা ‘বড় ভাইসুলভ মনোভাবের’ প্রতিফলন।

চীন দাবি করে, আঞ্চলিক সহযোগিতা কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং এটি পারস্পরিক লাভজনক ও উন্মুক্ত কাঠামোর ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে পারে। চীন-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে বলা হয়, দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোগী ও অংশীদার হওয়া উচিত—যাকে ‘ড্রাগন-এলিফ্যান্ট ট্যাঙ্গো’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো পারস্পরিক উন্নয়ন, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অভিন্ন সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে সক্ষম।