যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবারও জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি হরমুজ প্রণালিতে টোলমুক্ত নৌযান চলাচলের অনুমোদন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
ট্রাম্পের ভাষায়, ‘বিশ্বের সব জাহাজ চলাচল শুরু করুক। তেল প্রবাহ আবার স্বাভাবিক হোক।’
পরে আরেকটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে আরও বিস্তৃত একটি শান্তি চুক্তি হতে পারে।
এদিকে, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি রোববার চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে। চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এই সমঝোতার আওতায় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ হবে।
শেহবাজ শরিফ আরও বলেন, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে এই সমঝোতা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। তিনি চুক্তির বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি আলোচনায় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও টোলমুক্ত নৌ চলাচল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স চুক্তিটিকে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ‘নতুন যুগের সূচনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই সমঝোতা অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে লক্ষ্যও এতে অক্ষুণ্ন থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি কার্যকর হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


