ইরানে সরকারবিরোধী চলমান বিক্ষোভ দমনে চালানো সহিংস অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৪৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরান হিউম্যান রাইটস -আইএইচআর। নিহতদের মধ্যে নয়জন শিশু রয়েছে।
নরওয়েভিভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা আইএইচআর সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ তথ্য প্রকাশ করেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
আইএইচআর জানায়, দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণ ও সহিংস অভিযানে প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ৬৪৮ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত করেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। কিছু হিসাব অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। এ ছাড়া বিক্ষোভে আহত হয়েছেন হাজারো মানুষ এবং প্রায় ১০ হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনটি বলছে, দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, টানা তিন দিনের বেশি সময় ধরে ইরানে কার্যত ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। এতে করে নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ এবং ঘটনার স্বাধীন যাচাই ব্যাহত হচ্ছে।
আইএইচআর-এর পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যে মাত্রায় সহিংসতা চালানো হচ্ছে, তা গণহত্যার শামিল। এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের রক্ষা করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি নৈতিক দায়িত্ব। তিনি আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতি আরও কার্যকর ও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া জোরালো হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে এবং দমন–পীড়নের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে। এরই মধ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট তাদের ভবনে সব ইরানি কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে, যা তেহরানের সঙ্গে ইউরোপের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোর এই অবস্থানের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান সরকার। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তেহরানে নিযুক্ত ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের কূটনীতিকদের তলব করেছে। বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে দেওয়া বিবৃতি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান। ইরান সরকারের দাবি, ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।
চলমান এই সংকট ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক- দুই ক্ষেত্রেই গভীর প্রভাব ফেলছে। একদিকে অভ্যন্তরীণভাবে বাড়ছে দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক আরও কঠিন পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


