বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) হাতে আটক ২৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আরাকান আর্মির মধ্যে আলোচনার পর তাদের ফেরত আনা হয়।
ফেরত আসা ২৪ জেলের মধ্যে ১৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং আটজন টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপ থেকে একটি ট্রলারে করে ২৪ জেলেকে নাফ নদীর মাঝামাঝি শূন্যরেখায় নিয়ে আসে আরাকান আর্মি। পরে টেকনাফ পৌরসভার খায়ুকখালী ট্রানজিট জেটিঘাট থেকে বিজিবির একটি দল সেখানে গিয়ে আরাকান আর্মির সঙ্গে আলোচনা করে। আলোচনা শেষে আটক জেলেদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বেলা দেড়টার দিকে বিজিবি সদস্যরা ২৪ জেলেকে নিয়ে টেকনাফের ট্রানজিট জেটিঘাটে ফিরে আসেন।
টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় জেলেরা অনিচ্ছাকৃতভাবে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেছিলেন। পরে তাঁদের আটক করে আরাকান আর্মি। আটক জেলেদের মিয়ানমারের নিয়ন্ত্রিত এলাকা অথবা কারাগারে রাখা হয়েছিল। মানবিক বিবেচনায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি উদ্যোগ নেয় এবং আলোচনার মাধ্যমে ২৪ জেলেকে ফেরত আনা হয়েছে।
তিনি জানান, এর আগেও আরাকান আর্মির হাতে আটক জেলেদের কয়েক দফায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এবার ফেরত আসা জেলেদের স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মিয়ানমারে আটক অন্য জেলেদেরও দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৮ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশি নৌকাসহ মোট ৪৩৪ জেলেকে আটক করেছে আরাকান আর্মি। তাদের মধ্যে ২২২ জন বাংলাদেশি এবং ২১২ জন রোহিঙ্গা।
এর মধ্যে বিজিবির প্রচেষ্টায় কয়েক দফায় ৩৪৮ জন জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে ১৫৭ জন বাংলাদেশি এবং ১৯১ জন রোহিঙ্গা।
বর্তমানে মিয়ানমারের কারাগারে ৬৫ জন বাংলাদেশি ও ২১ জন রোহিঙ্গা জেলে বন্দি রয়েছেন।


