বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম লেংটং খুমিপাড়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত তিন শিশুই ওই পাড়ার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুই শিশু এবং শনিবার (২৫ জুলাই) আরও এক শিশু মারা যায়। নিহতদের একজন পাড়ার কার্বারি (পাড়াপ্রধান) শৈলুং খুমির মেয়ে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার মারা যাওয়া দুই শিশুর মরদেহ শনিবার বিকেলে পাশাপাশি দাফন করা হয়। পাড়ায় এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে আরও ছয়জন শিশু ও রোগী একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে।

নিহত তিন শিশু হলেন শৈলুং খুমির ছয় বছরের মেয়ে পলি এউং খুমি, তৈসাং খুমির পাঁচ বছরের ছেলে খ্রেতং খুমি এবং প উং খুমির পাঁচ বছরের ছেলে প্রেইত এউং খুমি। তাদের প্রত্যেকের শরীরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা ও চুলকানির উপসর্গ ছিল।

পাড়ার কার্বারি শৈলুং খুমি জানান, এর আগে একই উপসর্গে আরও তিন শিশু—খ্রেইপা খুমি (১০), শৈফ্রা খুমি (১৫) এবং ফ্রেলিং এউং খুমি (১০)—মারা গেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে রুমা উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম পাড়ায় হামের উপসর্গে অন্তত ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় এবং উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই।

রুমা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকদের ভাষ্য, গত দুই সপ্তাহ ধরে উপজেলার দুর্গম এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। বর্তমানে উপজেলা হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

লেংটং খুমিপাড়া রুমা সদর থেকে বগালেক হয়ে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে কেওক্রাডং পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত। বগালেক থেকে সেখানে পৌঁছানোর একমাত্র উপায় পায়ে হেঁটে দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করা। ২৬ পরিবারের এই পাড়ায় এখনো ছয়জন রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

রুমা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা বলেন, তার ইউনিয়ন ও গালেঙ্গ্যা ইউনিয়নে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে এবং চলতি মাসে বিভিন্ন পাড়ায় ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে, রুমা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার পাপিয়া দাশ জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গের কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। তিনি বলেন, লেংটংপাড়ায় হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে আগে কোনো তথ্য ছিল না।

জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ শাহীন হোসেন চৌধুরী জানান, রুমায় দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি তিনি জেলা পরিষদের মাধ্যমে জেনেছেন। এলাকায় আরও আক্রান্ত শিশু থাকলে দ্রুত তাদের হাসপাতালে এনে চিকিৎসা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তিনি।