রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) নির্মাণাধীন প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের চাঁদা দাবির ঘটনায় থমকে গেছে চলমান নির্মাণকাজ। নির্মাণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং শ্রমিকদের হুমকি দিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছে সাতজনের একটি অস্ত্রধারী দল। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ক্যাম্পাসে ১৬ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রশাসনিক ভবন এবং ১৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। উভয় ভবনের কাজ বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমই-আরবিজেবি। ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হলেও, নিরাপত্তা সংকটে তা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গত ২৬ জুন রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে সাতজনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে নির্মাণসাইটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চারজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। প্রথমেই তারা নিরাপত্তা প্রহরীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং পরে নির্মাণশ্রমিকদের থাকার টিনশেড ঘরে ঢুকে অন্তত ১০-১২টি মোবাইল ফোনসেট লুট করে। মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে জানিয়ে যায়, টাকা না পেলে ভবিষ্যতে ‘গুরুতর পরিণতি’ হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান প্রকল্পে এটিই প্রথম চাঁদা দাবি নয়। এর আগেও দুবার চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। তবে এবার আগ্নেয়াস্ত্রের প্রকাশ্য প্রদর্শন এবং লুটপাটের ঘটনায় নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এমই-আরবিজেবি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মীর হোসেন জানান, “সন্ত্রাসীরা নাম, পরিচয় বা গোষ্ঠী কিছুই জানায়নি। তবে স্পষ্ট জানিয়ে গেছে—চাঁদা না দিলে কাজ চলবে না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আতিয়ার রহমান ঘটনাটিকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজে অস্ত্রধারীদের চেহারা স্পষ্ট ধরা পড়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি, প্রশাসন এবারের ঘটনাকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
এদিকে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহেদ উদ্দীন জানান, “ঘটনার তদন্ত চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো রাষ্ট্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী হামলা পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে উন্নয়ন ও শিক্ষাব্যবস্থায় স্থবিরতা সৃষ্টি হবে, যা পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি স্বরূপ।
-পার্বত্য সময়


