পাহাড়, নদী আর নৌকাভিত্তিক যাতায়াতের সীমাহীন দুর্ভোগ পেরিয়ে অবশেষে বলিপাড়া ইউনিয়নের শঙ্খ নদীর উপর নির্মিত ২৫০ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুটি যেন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে দুর্গম থানচি উপজেলার মানুষের জন্য। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে নির্মিত এই সংযোগ সেতুটি পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ, কৃষি, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এক সময় নৌকা ছাড়া বিকল্প কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না বলিপাড়া ইউনিয়নের মানুষের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লে জীবন হয়ে উঠত বিপজ্জনক। বলিবাজার, থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা স্কুলে যাতায়াত করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যেত। এখন নবনির্মিত সেতু দিয়ে মাত্র ৮-১০ মিনিটেই থানচি বাজারে পৌঁছানো যাচ্ছে।
বলিবাজারের নদীর ওপারে প্রায় ৬,৫০০ মানুষের বসবাস। তাদের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ। আগে পচে যাওয়া কৃষিপণ্য, সময়মতো বিক্রি না করা শাকসবজি ও চিকিৎসা বঞ্চনার যে বাস্তবতা ছিল, সেই গল্প এখন অতীত হতে চলেছে। ব্রিজটি চালু হওয়ার পর কৃষকরা সহজেই বাজারে তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে যেতে পারছে। শিক্ষার্থীরা নিরাপদে স্কুল-কলেজে যেতে পারছে, এবং রোগীদের জন্য চিকিৎসাসেবা দ্রুততার সাথে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ২১ কোটি টাকা। মেজবা অ্যাসোসিয়েটসের বাস্তবায়নে নির্মিত ২৫০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতুটি বর্তমানে সকল কাঠামোগত কাজ শেষ করেছে। ভারী যান চলাচল শুরু না হলেও ছোট যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা অংথোয়াই ও চিং মং প্রু বলেন, “এই ব্রিজ আমাদের জন্য শুধু সেতু নয়, আমাদের স্বপ্নপূরণের পথ। আমরা আর পচা শাকসবজি নিয়ে বসে থাকি না, ন্যায্য দামে বাজারে বিক্রি করতে পারছি। আগে যেমন ভোগান্তি ছিল, এখন তেমন আনন্দ।”
বলিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়া অং মারমা বলেন, “আগে নদী পার হতে হতো নৌকায়। বর্ষায় গেলে ফিরতে পারতাম না। এখন মিনিটে মিনিটে একপাড় থেকে আরেকপাড়ে যেতে পারছি। এই সেতু এলাকার অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাবে।”
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন ইয়াছির আরাফাত বলেন, “থানচি উপজেলার বলিপাড়া সাঙ্গু নদীর উপর সেতুর নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। এরপর থেকেই এলাকাটি পুরোদমে অর্থনৈতিক গতিশীলতায় প্রবেশ করবে।”

-পার্বত্য সময়