খাগড়াছড়ি জেলায় কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড় ধসের আশঙ্কা তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলা সদরের শালবন, সবুজবাগ ও কুমিল্লা টিলাসহ কয়েকটি এলাকা ইতোমধ্যে ধসপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার। তার সঙ্গে ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় এবং রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক দল।
জেলা প্রশাসক সরেজমিনে গিয়ে বলেন, "প্রাণ আগে, পরে সবকিছু। পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে অনুরোধ করছি যেন তারা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান।"
তিনি আরও জানান, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং থাকার জন্য প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা পরিবারগুলোর জন্য সতর্কতা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড় ধস প্রতিরোধে মাইকিং, এলাকায় টহল, এবং আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা স্থানীয়দের সচেতন করতে কাজ করছে।
এদিকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী অনেক পরিবার এখনও নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে অনীহা দেখাচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যে অনেকে জানান, তারা ঘরবাড়ি ফেলে যেতে চাইছেন না। তবে প্রশাসন বলছে, জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছু নয়।
উল্লেখ্য, বিগত বছরগুলোতেও খাগড়াছড়ি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য জেলায় বর্ষাকালে পাহাড় ধসের কারণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যারা রয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

-পার্বত্য সময়