দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজপ্রায় এক রহস্যময় বনবাসীর অস্তিত্বের নতুন প্রমাণ মিলল পার্বত্য চট্টগ্রামের গভীর বনে। এক পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘের বিরল ছবি সম্প্রতি ধারণ করেছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স (সিসিএ)।

বুধবার (২৫ জুন) রাতে সিসিএ তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজে দিনের আলোয় তোলা দুটি ছবি প্রকাশ করে, যেখানে ঘন সবুজ গাছপালার আড়াল থেকে বেরিয়ে ফাঁকা স্থানে দাঁড়িয়ে আছে একটি চিতাবাঘ। ছবিতে বাঘটির লিঙ্গ নিশ্চিত করা না গেলেও সেটি যে সুস্থ, সচল এবং বড় আকারের প্রাপ্তবয়স্ক একটি চিতাবাঘ—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা একমত।

এই দৃষ্টান্ত প্রমাণ করে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে এখনো জীবিত রয়েছে এ প্রজাতির বিপন্ন প্রাণী, যা বাংলাদেশের বনবৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সিসিএ জানিয়েছে, তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন গভীর বনাঞ্চলে ক্যামেরা ফাঁদ বসিয়ে বন্যপ্রাণীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। এরই অংশ হিসেবে এই চিতাবাঘের ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, "এই আবিষ্কার শুধু আমাদের সংরক্ষণ প্রচেষ্টার সাফল্য নয়, বরং এটিই প্রমাণ করে পাহাড়ি বনে এখনো বহু অজানা প্রাণীর বসবাস রয়েছে। তবে শুধু গবেষণা বা নজরদারি যথেষ্ট নয়—স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এই প্রজাতির টিকে থাকা সম্ভব নয়।"

সিসিএ তাই বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে যাতে পাহাড়ে মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান সম্ভব হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্সাহ ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, ছবিটি বান্দরবানের কোনো সংরক্ষিত বনাঞ্চলের- বিশেষ করে চিম্বুক রেঞ্জ, মোদক রেঞ্জ বা রেং তলাং রেঞ্জ হতে পারে। স্থানীয়দের দাবি, এই গভীর জঙ্গলে রাতের বেলা বিভিন্ন অচেনা পশুপাখির শব্দ প্রায়ই শোনা যায়।

অনেকেই জানিয়েছেন, এসব বনে এখনো মেছোবাঘ, বানর, ধূসর বনমোরগ, বনবিড়াল, সবুজ বোড়া সাপসহ বহু বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে, যা পাহাড়ি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে।

বাংলাদেশে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা ও বৈচিত্র্য দিন দিন হুমকির মুখে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘন জঙ্গলে বিলুপ্তপ্রায় চিতাবাঘের উপস্থিতি নতুন করে আশার আলো জাগিয়েছে। তবে এর টিকে থাকা নির্ভর করছে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা, গবেষণা, স্থানীয়দের সচেতনতা এবং বন সংরক্ষণের কঠোর প্রয়োগের ওপর। পাহাড়ের মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করে বাংলাদেশ তার প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে পারে।